বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামকে এখনো কারাগারে আটক রাখা চরম জুলুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘন। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়ে তার মুক্তির ব্যাপারে জাতির প্রত্যাশা ছিল, যা এখনো পূরণ হয়নি।
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম। মিথ্যা, সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়, যা দেশের মানুষ কখনোই মেনে নেয়নি।”
তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আজহারুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এমনকি আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করে ঘটনাকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল।”
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, “সরকারের নির্দেশে বিচার ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে এ টি এম আজহারুল ইসলামের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। তাকে ন্যূনতম চিকিৎসা সেবাও দেওয়া হয়নি। তার বিরুদ্ধে যে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল, তার সবই অসংগতিপূর্ণ ও হাস্যকর। আদালতে ক্লাসমেট দাবি করে সাক্ষ্য দেওয়া এক ব্যক্তির বক্তব্য ছিল মিথ্যা। এমন মিথ্যা প্রমাণের ভিত্তিতে একজন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ন্যায়বিচার পরিপন্থী।”
তিনি বলেন, “২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর দেশবাসী আশা করেছিল, এ টি এম আজহারুল ইসলাম মুক্তিলাভ করবেন। কিন্তু ছয় মাসেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও তার মুক্তি নিশ্চিত করা হয়নি, যা দুঃখজনক ও হতাশাজনক।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “নতুন সরকারের প্রতি আমাদের জোর দাবি, এ টি এম আজহারুল ইসলামকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করা হোক।”
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, “দেশের জনগণ এখন গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচারের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে। জামায়াতে ইসলামী সব ধরনের বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে নতুন ভবিষ্যতের প্রত্যাশা করছে।”
সুত্রা২৪


