চট্টগ্রামের রাউজানে মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের হাতে পিটিয়ে নিহত হয়েছেন যুবলীগ কর্মী মুহাম্মদ হাসান (৩৫)। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাট বাজারের কাছে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত হাসানের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ি থেকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসান আওয়ামী লীগের শাসনামলে যুবলীগ নেতা মুহাম্মদ মোবারকের সহকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১৩ সালে মোবারককে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের অন্যান্য কর্মীর মতো হাসানও আত্মগোপনে ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি বাড়িতে ফেরেন। বুধবার সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে চৌধুরীহাট বাজারের পাশে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে নোয়াপাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসানের স্ত্রী ঝিনু আকতার বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যার আগে মুখোশধারী একদল লোক দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে হাসানকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়। রাত ১০টার দিকে চৌধুরীহাট বাজারে গিয়ে দেখি একটি অটোরিকশায় তাঁর দেহ পড়ে আছে।’
কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি না জানতে চাইলে ঝিনু বলেন, ‘যে গেছে সে তো গেল। নিজেদের নিরাপত্তা চাই। তাই মামলা বা অভিযোগ নিয়ে কিছু বলতে চাই না।’
হাসানের মামাতো ভাই আবু তাহের দাবি করেন, তিন বছর আগে হাসান রাজনীতি থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, মুহাম্মদ হাসান যুবলীগের এক সন্ত্রাসীর সহকারী ছিলেন। তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়েছে। তাঁর নামে কোনো মামলা ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি
সুত্রা২৪


