রাজশাহীর বারিন্দ মেডিকেল কলেজে চার ছাত্রনেতাকে আটকে রেখে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম (সিআরটি) দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
ঘটনার বিবরণ
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর চন্দ্রিমা এলাকায় অবস্থিত বারিন্দ মেডিকেল কলেজে এই ঘটনা ঘটে। আটকে পড়া চার সমন্বয়ক হলেন:
- জি কে এম মেশকাত চৌধুরী মিশু (বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক)
- সোহাগ সরদার (জেলা কমিটির মুখ্য সংগঠক)
- আব্দুল বারী (যুগ্ম আহ্বায়ক)
- আল-সাকিব (ছাত্রনেতা)
তাদের মধ্যে মিশু ও সাকিব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, আর বারী ও সোহাগ পড়াশোনা করছেন রাজশাহী কলেজে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তারা কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাবা মো. শামসুদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। এ সময় কলেজের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন এবং জনসমাগম ঘটিয়ে তাদের আটকানোর চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কাছে সহায়তা চায়। এরপর রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কুইক রেসপন্স টিম (সিআরটি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে এবং চন্দ্রিমা থানায় নিয়ে যায়।
আরএমপির মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, প্রতিষ্ঠান থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না পাওয়ায় তাদের ছাত্রনেতাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বারিন্দ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. বেলাল উদ্দীন বলেন, “এই চারজন সোমবার আমাদের সচিবের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। আজ আমার সঙ্গে বৈঠক করার কথা থাকলেও তারা সরাসরি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কক্ষে যান। কলেজের কিছু শিক্ষার্থী ও কর্মচারী এতে আপত্তি জানান।”
শাহরিয়ার আলমের বাবা মো. শামসুদ্দিন দাবি করেন, “তারা আমার সঙ্গে কঠোর ভাষায় কথা বলেছেন।” তবে চাঁদাবাজির বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করেই তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
উদ্ধার হওয়া সমন্বয়ক মেশকাত মিশু এক লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। বারিন্দ মেডিকেল কলেজ থেকেও এমন অভিযোগ আসছিল। তাই আমরা তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের আটকে রেখে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাঁদাবাজ বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”
এই ঘটনার পর রাজশাহীর রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সুত্রা২৪


