ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ – জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিএনপি এই ‘ফাঁদে’ পা দেবে না।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে বিএনপির বর্ধিত সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান বলেন, “জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য জনমনে ইতিবাচক আশা তৈরি করলেও, কিছু উপদেষ্টার বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য গণতন্ত্রকামী জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো তাদের মূল কর্মপরিকল্পনার অগ্রাধিকার ঠিক করতে পারেনি।”
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, “সারাদেশে খুন, হত্যা, ধর্ষণ, চুরি ও ছিনতাই বেড়েই চলেছে। বাজার সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার যেখানে বাজার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যর্থ, সেখানে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। এটি জনগণের কাছে বোধগম্য নয়।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “গণতন্ত্রকামী জনগণের বিশ্বাস, এই স্থানীয় নির্বাচন আসলে পলাতক স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের একটি প্রক্রিয়া। এটি গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। বিএনপি এই প্রক্রিয়ার অংশ হবে না।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “গণহত্যাকারী, দুর্নীতিবাজ ও টাকার পাচারকারী মাফিয়া চক্রকে পুনর্বাসনের কোনো প্রক্রিয়ায় বিএনপি অংশ নেবে না।”
তারেক রহমান সরকারের উদ্দেশে বলেন, “গণহত্যাকারীদের দোসর ও দুর্নীতিবাজদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থেকে সরে আসুন। বরং অবিলম্বে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করুন, যাতে জনগণ বুঝতে পারে আগামী দিনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী হবে।”
তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতীয় নির্বাচনে জনগণ যদি বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তবে আমরা গণহত্যাকারী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করবো।”


