স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার (১ মার্চ) সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন,
“কক্সবাজারে অপহরণের প্রবণতা বাড়ছে। আশ্রিত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকেই অপহরণসহ নানা অপরাধে জড়িত। তাদের যত দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে, ততই দেশের জন্য মঙ্গল।”
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি বড় অংশ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকায় বাংলাদেশকে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মি—উভয়পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখতে হচ্ছে বলে জানান উপদেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, “মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানির সময় ব্যবসায়ীদের সিটওয়েতে মিয়ানমার সরকারকে এবং সীমান্ত অতিক্রমের সময় আরাকান আর্মিকে ট্যাক্স দিতে হচ্ছে, যা সীমান্ত বাণিজ্যে জটিলতা সৃষ্টি করছে।”
সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মানবপাচার ও মাদক চোরাচালান বন্ধে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) যাত্রা শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হলেও বর্তমানে তারা সীমান্ত অঞ্চলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত প্রত্যাবাসন সম্ভব না হলেও, সরকার এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে।”
কক্সবাজারে পর্যটন এলাকায় দখল-বেদখল, ছিনতাই ও সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন,
“আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় বিবেচনায় নয়, অপরাধ বিবেচনায় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে কোনো দলের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে বলা হয়নি।”
এ সময় বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগে চকরিয়া থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন তিনি।
উখিয়ায় নবগঠিত বিজিবি ইউনিট উদ্বোধন
দুপুরে কক্সবাজার বিজিবি ব্যাটালিয়নের প্রশিক্ষণ মাঠে নবগঠিত উখিয়া বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্টেশন সদর দপ্তর, গার্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও কে-নাইন ইউনিট অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
মতবিনিময় সভায় সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, ইমিগ্রেশন ও কৃষি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সুত্রা২৪


