ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে বরিশালে এক দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সোমবার (৭ এপ্রিল) সকালে গ্লোবাল স্ট্রাইক ফর গাজা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ, সমাবেশ, এবং সড়কে নামাজ আদায়সহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এই বিক্ষোভের সময়, ইসরায়েলকে অর্থ সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেএফসি বরিশাল ব্রাঞ্চের সামনে বিক্ষুব্ধ জনতা অবস্থান নেন এবং ভাঙচুর চালান। তারা দাবি করেন, কেএফসি ইসরায়েলকে অর্থ সহায়তা করে, যার কিছু অংশ যুদ্ধের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিবাদকারীরা কেএফসি বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিক্ষোভকারীরা প্রথমে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনের সড়ক অবরোধ করে এবং একটি প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এরপর মিছিল নিয়ে প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন। বক্তারা গাজার ওপর ইসরায়েলের বর্বরতা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গাজার মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এরপর বিক্ষুব্ধরা কেএফসি বরিশাল শাখার সামনে অবস্থান নেন, যেখানে তারা কেএফসির লোগো ভেঙে ফেলেন এবং দেয়ালে ‘বয়কট কেএফসি’ লিখে দেন। পুলিশ এবং সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে বিক্ষোভকারীরা সড়কে জোহরের নামাজ আদায় করেন এবং গাজাবাসীর জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।
এদিকে, বরিশাল জেলা এবং মহানগর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। বক্তারা জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে গাজার ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করার দাবি জানান।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনাস্থলে কিছু ক্ষতি হয়েছে, তবে পরিস্থিতি বর্তমানে আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।”


