ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বাংলা নববর্ষের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে তৈরি দুটি প্রতীকী ভাস্কর্যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১২ এপ্রিল) ভোররাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ভোর ৫টা ৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৫টা ২২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে পুড়ে যায় ‘ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি’ ও ‘শান্তির পায়রা’ নামের দুটি প্রতীকী মোটিফ।
সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা রুহুল আমিন মোল্লা বলেন, “সেখানে একাধিক মোটিফ থাকলেও কেন শুধু দুটি নির্দিষ্ট মোটিফে আগুন লেগেছে, সেটি রহস্যজনক।” ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, “পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া আগুনের কারণ বলা যাবে না।”
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শাহবাগ থানা পুলিশও। ওসি খালিদ মনসুর জানান, “কীভাবে আগুন লাগল, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে, তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
চারুকলা অনুষদ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংস্কৃতি কর্মী ও উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “হাসিনার দোসররা গতকাল রাতে চারুকলায় ফ্যাসিবাদের মুখাবয়ব পুড়িয়ে দিয়েছে। এই দুঃসাহস যারা দেখিয়েছে—সফট আওয়ামী লীগ হোক বা আওয়ামী বি-টিম—তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনতে হবে।”
তিনি আরও লিখেন, “এই ঘটনার পর শোভাযাত্রার তাৎপর্য আরও বেড়েছে। এই দানবের উপস্থিতি এবার আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।”
চারুকলার নববর্ষের শোভাযাত্রা প্রতিবছর একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক প্রতীক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমালোচনা ও প্রতিবাদের সুর আরও জোরদার হয়েছে।


