কিশোরগঞ্জ, ১২ এপ্রিল:
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার পাওয়া গেলো রেকর্ড ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। সঙ্গে রয়েছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার, রূপার গহনা এবং নানা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা।
শনিবার (১২ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হয়ে প্রায় দশ ঘণ্টা ধরে চলে দানবাক্স খোলার কাজ। ২৮ বস্তা টাকা গণনা শেষে সন্ধ্যায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক জেসমিন আক্তার।
আগের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে এবারের সংগ্রহ
এর আগে গত বছরের ৩০ নভেম্বর মসজিদটির নয়টি দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল ৮ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৪ টাকা, যা তখন পর্যন্ত ছিল সর্বোচ্চ। কিন্তু এবারের ৯ কোটি ছাড়ানো সংগ্রহ সেই রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছে।
সোনাদানা ও বিদেশি মুদ্রাও
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, “টাকার পাশাপাশি পাওয়া গেছে বিপুল সোনা ও রূপার গহনা, যার মধ্যে রয়েছে চেইন, কানের দুল, আংটি, এবং কংকন। সেইসাথে, পাওয়া গেছে মার্কিন ডলার, সৌদি রিয়াল, ইউরো, রিংগিত, রুপিসহ বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা।”
বিশেষ এই মসজিদে দানের ধারা অব্যাহত
পাগলা মসজিদ শুধু টাকাই নয়, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষ হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্রও দান করে থাকেন। এসব দানের পেছনে রয়েছে মানুষের বিশ্বাস—এখানে দান করলে দোয়া কবুল হয়, বিপদ কেটে যায়।
প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর দানবাক্স খোলা হয়। মসজিদের দানবাক্সের সংখ্যা নয়টি। এবার এসব বাক্স থেকে টাকা বের করতে সময় লেগেছে প্রায় দশ ঘণ্টা।
মসজিদের দানের অর্থ ব্যবহৃত হয় জনকল্যাণে
পাগলা মসজিদের তহবিল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দানের অর্থ ধর্মীয়, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে এতিমখানা পরিচালনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহায়তা, গরিব-দুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা ইত্যাদি।
সুত্রা২৪


