বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিশন। তারা আশা করছে, আগামী জুনের মধ্যেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে তদন্ত কমিশনের সদস্যরা এই অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বিষয়টি গণমাধ্যমে জানানো হয়।
কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আলম ফজলুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি অনেক পুরোনো হওয়ায় অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে কিছুটা সময় লাগছে। অভিযুক্তদের অনেকেই বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান—
- ২৩ জন প্রবাসীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
- এর মধ্যে ৮ জন ইতিমধ্যে সাক্ষাৎ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
- কারাগারে থাকা বেশ কয়েকজনের সাক্ষাৎকার ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত
কমিশন প্রধান বলেন, “আমরা তদন্ত করছি হত্যা ও নির্যাতনের প্যাটার্ন নিয়ে। ডিজিকে হত্যার পর বাকিদের হত্যা করা হয়— এটা ছিল পরিকল্পিত। এমন ঘটনা পলাশীর পুনরাবৃত্তির মতো। এর মূল শেকড় খুঁজে বের করতেই হবে।”
কমিশনের আরেক সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার বলেন, “এত বড় হত্যাকাণ্ডের পরেও কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে দায়ী করা হয়নি। এটা ছিল গোয়েন্দা, সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার সমন্বয়।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এটা ছিল নৃশংস হত্যাকাণ্ড, যেখানে নিজেদের অফিসারদেরই হত্যা করা হয়েছে। পুরো জাতি এই তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছে। এই রহস্য উদঘাটন করতেই হবে।”
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন:
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান, মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, ড. এম আকবর আলী, মো. শরীফুল ইসলাম, শাহনেওয়াজ খান চন্দন এবং এ টি কে এম ইকবাল।
সুত্রা২৪


