32.8 C
Dhaka
Monday, June 15, 2026

“আওয়ামী লীগের পর এবার বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে বালু লুটের অভিযোগ”

advertisment
- Advertisement -spot_img

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় সীমান্তবর্তী যমুনা নদী থেকে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকার বালু লোপাট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অবাধে এই বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙ্গন বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

জামালপুর ও বগুড়া দুই জেলার সীমান্তের অজুহাত দেখিয়ে কোন প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বিষয়টি রহস্যজনক মনে করছে এলাকাবাসী। তারা অভিযোগ করেছে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এই বালু উত্তোলন চলছে।

বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের জামথল এলাকায় অবস্থিত অবৈধ বালু ব্যবসা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার দখলে ছিল। বর্তমানে এই ব্যবসা বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইসহাক ও তার দলের নেতাকর্মী এবং জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বিএনপির কিছু নেতা ও পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জামালপুর-বগুড়ার সীমান্তঘেঁষা যমুনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন শুরু করে সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মোল্লা। তার কবল থেকে গত বছর ৫ আগস্ট তা দখলে নেন সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইসহাক ও তার দলের নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন ও বিক্রির ফলে প্রতিমাসে প্রায় ১ কোটি টাকার বালু বিক্রি হচ্ছে।

বালু ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশে না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ম্যানেজ করেই যমুনায় বালু তোলা হয়। এই বালু জামালপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হয়, এবং এ জন্য স্থানীয় নেতা ও প্রশাসনকে মাসিক ভিত্তিতে মোটা অংকের টাকা দেওয়া হয়।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইসহাক প্রামাণিক বলেন, “মাদারগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতার বালু ছিল, আমরা তার কাছ থেকে কিনে নিয়েছি”, কিন্তু তিনি যমুনা থেকে বালু তোলার বিষয়টি এড়িয়ে যান। মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, কাজলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মোল্লার ভাতিজা সোহেল মোল্লা জানান, “আমার চাচার বালু ছিল, ৫ আগস্টের পর চাচা আত্মগোপনে যাওয়ার পর সব দখলে নিয়েছে বিএনপির সভাপতি ইসহাক ও সাধারণ সম্পাদক মুহিদুল ইসলাম।”

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির শাহ কোন কথা না বললেও, বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার রহমান টেলিফোনে বলেন, “আমরা যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য কয়েক বার ভ্রাম্যমাণ আদালতে জড়িতদের শাস্তি ও জরিমানা করেছি।”

প্রশাসন ম্যানেজ করার ব্যাপারে অস্বীকার করে তিনি বলেন, “তারা অবৈধ ব্যবসা করে, তাই আমাদের নাম ব্যবহার করছে। তবে আমরা বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি।”

এলাকাবাসী জানান, জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় এই বালু পরিবহণ ও বিপণন হলেও স্থানীয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ