স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা
ঢাকা, ৫ মে:
হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সহিংসতা রোধ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘মেডিকেল পুলিশ’ নামে একটি বিশেষ প্রশিক্ষিত ইউনিট গঠনের সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন।
সোমবার (৫ মে) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে বলা হয়, চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ ধরনের ইউনিট গঠনের প্রয়োজন রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি আধুনিক ডিজিটাল অভিযোগ নিষ্পত্তি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি), নার্সিং কাউন্সিল (বিএনএমসি), ফার্মেসি কাউন্সিল ও অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল কাউন্সিলের আইনগত ক্ষমতা ও কাঠামো আরও কার্যকর করতে হবে।
পেশাগত অবহেলার অভিযোগে কাউকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলের অনুমতি আবশ্যক হবে এবং তদন্ত ও সিদ্ধান্ত ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য মেডিকেল প্রফেশনাল ইন্স্যুরেন্স চালু।
- মানহীন ও অননুমোদিত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ।
- ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ।
- এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রিধারী না হলে ‘চিকিৎসক’ পরিচয়ে রোগী দেখার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বিএমডিসির মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
বিশ্লেষকদের মতে, কমিশনের এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে দেশের স্বাস্থ্যখাত আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ হতে পারে।


