ঢাকা, ২৪ মে:
ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল শক্তিকে একত্রিত করে একটি জাতীয় সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী।
তিনি বলেন, “আমরা আবারও জাতীয় সরকারের দাবি করছি; যেখানে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন থেকে শুরু করে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। আগামী এক বছরের জন্য এই জাতীয় সরকারের অধীনেই বিচার, মৌলিক সংস্কার এবং জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।”
জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যদি জাতীয় সরকার না হয়, তবে অন্তত জাতীয় ঐক্য কাউন্সিল গঠন করতে হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন, যারা মন্ত্রী না হলেও ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবেন।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি মৌলিক সংস্কার ছাড়াই ইউনূস সরে দাঁড়ান বা নির্বাচন আয়োজন করেন, তাহলে দেশে গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি হবে, যার দায় নিতে হবে রাজনৈতিক দল ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে।”
জুলাই আন্দোলন ও এনসিপিকে নিয়ে অভিযোগ
জুলাই আন্দোলনকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কুক্ষিগত করেছে অভিযোগ করে হাদী বলেন, “এনসিপির তিনটি বড় ভুল—জুলাই আন্দোলনকে কুক্ষিগত করা, নেতাদের মধ্যে দুর্নীতি এবং ঐক্য বিনষ্টের ভূমিকা।” তিনি দাবি করেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র না হলে শহীদ পরিবার ও আন্দোলনের শরিকদের ভারত ও আওয়ামী লীগ কচুকাটা করবে।”
সেনাবাহিনী ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য
সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক’ বলে মন্তব্য করে হাদী বলেন, “বর্তমান সেনাপ্রধান রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন, যা অনুচিত। সেনাবাহিনী হয়তো সিদ্ধান্ত নিয়েছে—আগামীতে যেই ক্ষমতায় আসুক, তাদের সেনাবাহিনীকে সদন জানাতে হবে।”
সরকারের কিছু অংশের ‘দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতায় থাকার বাসনা’ উল্লেখ করে হাদী বলেন, “এই সরকারের অনেকে ড. ইউনূসের নাম ব্যবহার করে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে চায়। অনেকে ইতোমধ্যে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।”
বিএনপির প্রতি আহ্বান
বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনারা কেন জুলাইয়ের রাজনীতি করলেন না? বলুন, জুলাই ঘোষণাপত্র দিতে হবে, না হলে ঢাকা শহর অচল করে দিতে হবে।”


