ক্যানবেরা, ২৮ মে ২০২৫ —
অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম নারী সিনেটর ফাতিমা পেইম্যান অভিযোগ করেছেন, এক পুরুষ সহকর্মী তাকে মদ্যপান ও টেবিলের ওপর নাচার অশোভন প্রস্তাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
বার্তাসংস্থা এএফপি ও দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত সহকর্মী নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এই প্রস্তাব দেন। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাতিমা বলেন,
“ওই ব্যক্তি অনেক বেশি মদ্যপান করার পর বলেন, ‘চলো তোমাকে একটু ওয়াইন খাওয়াই, তারপর দেখি তুমি টেবিলের ওপর নাচো।’ আমি তখন বলি—এখানেই সীমা টানছি, মেট।”
তিনি জানান, ঘটনার পরপরই তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছেন।
মাত্র ৩০ বছর বয়সী সিনেটর ফাতিমা পেইম্যান আফগানিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে হিজাব পরা প্রথম মুসলিম নারী সিনেটর। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী তিনি মদ্যপান করেন না এবং ওই মন্তব্যকে তিনি ব্যক্তিগত ও ধর্মীয়ভাবে অপমানজনক মনে করেছেন।
যদিও ঘটনাটি কবে ঘটেছে বা অভিযুক্ত সহকর্মীর পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে এ ঘটনা নতুন করে অস্ট্রেলিয়ান রাজনীতিতে নারী, সংখ্যালঘু ও ধর্মীয় প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এ ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয় ২০২১ সালের বহুল আলোচিত ব্রিটানি হিগিন্স কাণ্ডের কথা, যেখানে পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে তাকে ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন এক রাজনৈতিক সহকারী। এরপর থেকেই অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে যৌন হয়রানি, বুলিং এবং অ্যালকোহল সংস্কৃতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে ফাতিমা পেইম্যান লেবার পার্টি থেকে বেরিয়ে স্বাধীন সিনেটর হিসেবে কাজ শুরু করেন। গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি দলের ‘অপর্যাপ্ত সহানুভূতির’ প্রতিবাদেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।


