33.4 C
Dhaka
Monday, June 22, 2026

ইশরাক-ইশরাক স্লোগানে আজও উত্তাল নগর ভবন

advertisment
- Advertisement -spot_img

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে টানা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটির কর্মচারীরা। সে ধারাবাহিকতায় আজও বন্ধ রয়েছে নগর ভবনকেন্দ্রিক সব সেবা কার্যক্রম। সেবাপ্রার্থীরা সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারে নগর ভবনে একত্রিত হয়েছেন ইশরাকের অনুসারীরাও। তারা মূল ফটক আটকে দেওয়ার পাশাপাশি ডিএসসিসির সব বিভাগের অফিস গেটে তালা ঝুলিয়ে রেখেছেন। ফলে পুরো ভবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

এদিকে সমর্থকরা ‘শপথ শপথ শপথ চাই, ইশরাক ভাইয়ের শপথ চাই’, ‘মেয়র নিয়ে টালবাহানা, সহ্য করা হবে না’, ‘চলছে লড়াই চলবে, ইশরাক ভাই লড়বে’, ‘নগরপিতা ইশরাক ভাই, আমরা তোমার ভুলি নাই’—এমন সব স্লোগানে উত্তাল করে তুলেছে নগর ভবন এলাকা।

সোমবার (২ জুন) সকাল থেকে নগর ভবনের ভেতরের ফটকের সিঁড়িতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন তার সমর্থক ও শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মচারীরা।

‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন’ ও ‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারে সংগঠিত এই কর্মসূচিতে কিছুক্ষণ পরপর নগর ভবন প্রাঙ্গণে মিছিল হচ্ছে। এই আন্দোলনের কারণে ১৫ মে থেকে নগর ভবনের সব নাগরিক সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া একাধিক সমর্থক বলেন, “কী কারণে মেয়র হিসেবে ইশরাক ভাইয়ের শপথ আটকে আছে আমরা জানি না। জনগণের মেয়র ইশরাক। যতদিন না তিনি দায়িত্ব নিচ্ছেন, ততদিন আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন ফল বাতিল চেয়ে মামলা করেন ২০২০ সালের ৩ মার্চ।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল সেই ফল বাতিল করে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে। এরপর ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে তার মেয়র পদে নিয়োগ নিশ্চিত করে।

তবে তাকে শপথ না পড়াতে গত ১৪ মে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। সেই প্রেক্ষিতে মেয়রের দায়িত্ব বুঝে নিতে না পারায় ১৫ মে থেকে আন্দোলনে নামে ইশরাক সমর্থকরা। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আইনি জটিলতার কথা বলে শপথ অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকে।

পরবর্তীতে হাইকোর্ট রিট খারিজ করে দিলে ইশরাক ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়ে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও শপথ অনুষ্ঠান না হওয়ায় ফের আন্দোলনে নামেন তার সমর্থকরা। এখনো চলছে সেই টানা আন্দোলন।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ