গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের দ্বিতীয় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন পেয়ে হতবাক হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৪ জুন) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তিনি বলেন, “কী ভয়াবহ একেকটি ঘটনা! আমাদের সমাজের ‘ভদ্রলোকেরা’, আমাদের আত্মীয়-পরিজনরাই এসব ঘটিয়েছে। আপনাদের রিপোর্ট দেখে মনে হয় একটি হরর মিউজিয়াম হওয়া উচিত।”
প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।
ড. ইউনূস বলেন, “গা শিউরে ওঠে—তিন ফিট বাই তিন ফিটের বন্দিশালায় দিনের পর দিন, এমনকি মাসের পর মাস আটকে রাখার নির্মম ও নিষ্ঠুর চিত্র মানুষের সামনে তুলে ধরা উচিত।”
প্রতিবেদন জমা ও প্রতিক্রিয়া
প্রতিবেদন জমা দিতে কমিশনের প্রধান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন সদস্য নূর খান, সাজ্জাদ হোসেন ও নাবিলা ইদ্রিস। অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন, “এই প্রতিবেদন বই ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও এটি গুরুত্বপূর্ণ হবে।”
তিনি মন্ত্রণালয়ভিত্তিক করণীয় নির্ধারণ করে সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
ভেতরের তথ্য: অনুশোচনার চিঠি ও গুমের সংখ্যা
একজন কমিশন সদস্য জানান, ঘটনাগুলো এতটাই ভয়ংকর যে জড়িত অনেক কর্মকর্তা অনুশোচনায় ভোগেন। এমনকি দুজন অফিসার লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়ে চিঠিও দিয়েছেন, যা গণভবনে জমা পড়েছে। তৎকালীন সেনাপ্রধান এ চিঠির বিষয়ে জনসমক্ষে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
কমিশনের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ১,৮৫০টি অভিযোগ এসেছে, যার মধ্যে ১,৩৫০টি যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে। অভিযোগের সংখ্যা ৩,৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও তারা জানান। এখনও ৩ শতাধিক নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো খোঁজ মেলেনি।
আইন সংশোধন ও ব্যাঙ্কিং সুবিধা
কমিশনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে, কেউ যদি ৫ বছর নিখোঁজ থাকেন, তবে তাকে মৃত হিসেবে বিবেচনার সুযোগ রাখতে হবে (বর্তমান আইন অনুযায়ী ৭ বছর)। পাশাপাশি নিখোঁজদের পরিবার যেন অন্তত ব্যাংক লেনদেন করতে পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
ড. ইউনূসের প্রশংসা
কমিশনের সাহসী ও নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আপনারা নানা হুমকি-ধামকি উপেক্ষা করে কাজ করে যাচ্ছেন। আপনারা এ দেশের মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন। ভবিষ্যতের অধিকারকর্মীরাও আপনাদের পথ অনুসরণ করবে।”
সংক্ষিপ্ত তথ্য:
- মোট অভিযোগ: প্রায় ১,৮৫০
- যাচাই শেষ: ১,৩৫০+
- নিখোঁজ: ৩০০+
- আইন সংশোধনের সুপারিশ: ৫ বছরে মৃত ঘোষণার প্রস্তাব
- প্রস্তাবিত উদ্যোগ: হরর মিউজিয়াম, বই ও ওয়েবসাইটে প্রতিবেদন প্রকাশ
সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার অফিস / ফেসবুক পেজ


