শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্রপক্ষ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে গুম, খুন, চাঁদাবাজি ও টাকা পাচারের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সৃষ্টি করেছিলো বিগত সরকার—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী মামলার সূচনা বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
রোববার (৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে সূচনা বক্তব্য শুরুর আগে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “ব্যক্তি নয়, অপরাধই মুখ্য। ব্যক্তি যেই হোক, সে অপরাধ করলে তার বিচার হওয়া উচিত—এতেই আমরা বিশ্বাস করি। সেই কারণেই আজকের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজকের দিনটি ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর ইতিহাসে শেখ হাসিনার মতো স্বৈরাচারের আর কোনো উদাহরণ নেই। তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মিথ্যাবাদী স্বৈরশাসক।”
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, “যদি কোনো স্বৈরশাসকের সমিতি গঠিত হয়, তবে শেখ হাসিনা হবেন তার সভাপতি। যেকোনো স্বৈরাচার যদি মিথ্যার ওপর পিএইচডি করতে চায়, তাকে শেখ হাসিনার কাছে শিখতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এবং দেশের ভবিষ্যতের জন্য আমরা স্বৈরাচার ও তার সহযোগীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এই বিচার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তবে আমরা চাই না, কোনো ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’-এর মাধ্যমে এই বিচার হোক।”
এ সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনেই বিচার পরিচালিত হবে। এটি কোনো প্রতিশোধ নয়, বরং বিচার ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপনের একটি প্রয়াস।”
এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় ‘রাজসাক্ষী’ হিসেবে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে। পাশাপাশি সাক্ষ্য দিচ্ছেন ‘জুলাই আন্দোলনে’ আহতরা।


