গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজের বিরুদ্ধে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার নামে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
প্রতারণার শিকার দুই ভুক্তভোগী গত ২ আগস্ট উপজেলা ও জেলা আমির বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে দলীয় নেতাদের চাপে পড়েন সিরাজুল। পরে সিনিয়র নেতাদের মধ্যস্থতায় তিনি টাকা ফেরত দেন। বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে সাদুল্লাপুর জামায়াত কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়।
ভুক্তভোগীদের একজন, দমোদরপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাসুদ রানা, অভিযোগ করেন—শিক্ষক নিবন্ধনে পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে সিরাজুল তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। পরে তিনি ৫০ হাজার টাকা দেন, কিন্তু পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর টাকা ফেরত চাইলে সিরাজুল নানা অজুহাত দেন।
আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল হাদীর দাবি, সিরাজুল তার কাছে এক লাখ টাকা চান, পরে ৭৫ হাজার টাকায় চুক্তি হয় এবং তিনি ১৫ হাজার টাকা দেন। ব্যর্থ হওয়ার পর টাকা ফেরত চাইলে অজুহাত দেখানো হয়, তবে শেষ পর্যন্ত তিনি টাকা ফেরত পান।
এছাড়া, মফিজল হক নামে আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন—৮ জুলাই সন্ধ্যায় সিরাজুল ২০-২৫ জনকে নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালান এবং ছেলে তাজুল ইসলামকে অপহরণের চেষ্টা করেন, যা স্থানীয়দের সহায়তায় ব্যর্থ হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপজেলা জামায়াত নেতা জানান, সিরাজুল দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিবন্ধন ও সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন। সম্প্রতি প্রায় ১৭ লাখ টাকা লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বৈঠকে সিরাজুল টাকা ও চেক নেওয়ার বিষয় স্বীকার করেন বলে অভিযোগ।
তবে উপজেলা জামায়াত আমির মো. এরশাদুল হক ইমন বলেন, এটি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সমাধান হয়েছে। তার দাবি, সিরাজুল টাকা নেননি, শুধু মধ্যস্থতা করেছেন। জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. রোকনুজ্জামান রোকন জানান, তিনটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সিরাজুল দাবি করেন, তিনি কেবল অভিযোগকারীদের অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছেন, নিজে কোনো টাকা নেননি। ভিডিও ফাঁস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি সেক্রেটারি হওয়ার আগের এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।


