চাঁদাবাজির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নতুন কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী নিজাম উদ্দিনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাতের সই করা এক চিঠিতে বিষয়টি জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, গণমাধ্যমের বরাতে আপনার বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারি ও গুরুতর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, যা দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। এমতাবস্থায়, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আপনাকে দলের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো। একইসঙ্গে, কেন আপনাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না—তার লিখিত ব্যাখ্যা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল-আমিনের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম নগর শাখার সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব রাহাদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সাইফপাওয়ার টেকবিরোধী আন্দোলন দমন করতে গিয়ে নিজাম উদ্দিন ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি এটিকে শুধু দুর্নীতিই নয়, ছাত্র ও জনতার বিশ্বাসের প্রতি সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
দেড় মিনিটের ওই ভিডিওতে আফতাব হোসেন রিফাত নামে একজনকে নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে মেসেঞ্জার কলে কথা বলতে দেখা যায়, যা অন্য একটি ফোনে রেকর্ড করা হয়। কথোপকথনে আফতাব বলেন, “যদি মীর ভাইয়েরা আন্দোলন বন্ধ না করে তখন কী করব?” জবাবে নিজাম বলেন, “আন্দোলন বন্ধ করাব। তোমারে দিছে, টাকা দিছে?” আফতাব উত্তর দেন, “হ্যাঁ।”
এরপর কত টাকা দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে আফতাব বলেন, “পাঁচ।” জবাবে নিজাম উদ্দিন বলেন, “আরও বেশি নিতা প্রেশার দিয়ে… তোমরা দেখো ওর থেকে আরও পাঁচ লাখ নিতে পারো কি না। নিতে পারলে ওদের আমি এনে, রোহান, মীরদেরকে এসে কিছু দিয়ে দিলাম।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আফতাব হোসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক সমন্বয়ক।
এর আগে গত ৫ জুলাই রিয়াজুল জান্নাত নামের এক নারী চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেন, দুই কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছেন নিজাম উদ্দিন। তখনও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে কিছুদিনের মধ্যে আবার দলে নেওয়া হয়। সবশেষ ৯ আগস্ট এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়, যেখানে ৩২ সদস্যের মধ্যে নিজামকে যুগ্ম সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।


