28.1 C
Dhaka
Wednesday, June 17, 2026

জামিনে মুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে সরকার

advertisment
- Advertisement -spot_img

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামিনে মুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ওপর নজরদারি জোরদার করেছে সরকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা পুনরায় অপরাধে জড়ালে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা যায়। একইসঙ্গে এসব সন্ত্রাসীর গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, পুলিশ সদর দপ্তর, বিজিবি, কোস্টগার্ড, এনএসআই, ডিজিএফআই ও এসবিকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সভায় বলা হয়, মুজিববাদী সন্ত্রাসী কার্যক্রম যেকোনোভাবে বন্ধ করতে হবে এবং তাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আনতে হবে। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবকে এ বিষয়ে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নিষিদ্ধ দল বা সংগঠন এবং ফ্যাসিস্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের জামিন না দেওয়ার বিষয়েও পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রচার

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে মসজিদ, মন্দিরসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জঙ্গিবাদবিরোধী বক্তব্য প্রচার অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনে সঠিক তথ্যভিত্তিক পাল্টা বক্তব্য প্রচারের কথাও বলা হয়েছে।

নজরদারিতে হিযবুত তাহরীর

জামিনে মুক্ত হিযবুত তাহরীরের সদস্যদেরও বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের প্রচারণা মোকাবিলায় পাল্টা কৌশল গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

অস্ত্রের লাইসেন্সে কড়াকড়ি

নির্বাচন ঘিরে নতুন অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। শুধু সরকারি কর্মকর্তা ও অনুমোদিত সিকিউরিটি সার্ভিস ছাড়া অন্য কাউকে অস্ত্রের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

চাঁদাবাজদের তালিকা

সারা দেশের চাঁদাবাজদের শনাক্ত করে তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকাভুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নজরদারি

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষ নজরদারি চালানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও গুজবের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সরকার মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেছেন, নির্বাচনের সময় জামিনে থাকা সন্ত্রাসীরা সক্রিয় হলে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে। তাই সরকারের নজরদারি জোরদার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন মনে করেন, শুধু নজরদারি নয়, তাদের অপরাধ রোধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি।
  • সাবেক আইজি মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, নজরদারি সরকারের স্বাধীনতা। তবে জামিন মানুষের মৌলিক অধিকার, অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে আটক রাখা যায় না।
  • রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. রাশেদা রওনক খান বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে সন্ত্রাসীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তবে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণে বাধ্য করাও জরুরি।
সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ