বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের জনগণের আন্দোলন। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তারাই এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড। কোনো দল বা ব্যক্তি নয়—এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি। সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়েছে।
নিজেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে দেখেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “না। আমি অবশ্যই এই জুলাই আন্দোলনে নিজেকে কখনোই মাস্টারমাইন্ড হিসেবে দেখি না।”
তিনি আরও বলেন, “এই আন্দোলনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা—সেটি বিএনপি হোক বা অন্য কোনো দল—যারা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল বিভিন্নভাবে অবদান রেখেছে। বিভিন্নভাবে তাদের নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়েছে।”
আরও পড়ুন
🔹 ইনশাআল্লাহ দ্রুতই দেশে ফিরে আসব : তারেক রহমান
🔹 শহিদুল আলমকে তারেক রহমানের অভিনন্দন, পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি
🔹 ঐক্যবদ্ধ না হলে গুপ্ত স্বৈরাচারের আবির্ভাব হবে : তারেক রহমান
তারেক রহমান বলেন, “আমি মনে করি জুলাই-আগস্ট মাসে এসে জনগণ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে।”
বিএনপি দলগতভাবে নাকি জোটবদ্ধভাবে আসন ভাগাভাগির মাধ্যমে আগামী নির্বাচন করবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “প্রায় ৬৪টি রাজনৈতিক দল বিগত স্বৈরাচারের সময় যার যার অবস্থান থেকে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। আমরা চেষ্টা করেছিলাম কমবেশি একসাথে কাজ করার জন্য। এমনকি আমরা যে ৩১ দফা দিয়েছি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের, এটি প্রথমে ২০১৬ সালে আমরা দিয়েছিলাম শুধু বিএনপির পক্ষ থেকে। পরবর্তীতে ভিশন টুয়েন্টি ছিল, যেটা পরবর্তীতে কিছুটা আরেকটু উন্নত করে আমরা ২৭ দফা দিয়েছিলাম।”
“পরবর্তীতে আমরা আমাদের সঙ্গে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে সকলের মতামত নিয়ে ৩১ দফা দিয়েছি। কারণ হলো—যে দলগুলোকে আমরা পেয়েছি আমাদের সঙ্গে রাজপথের আন্দোলনে, আমরা চাই সকলকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠন করতে। সকলের মতামতকে অন্তর্ভুক্ত করে আমরা রাষ্ট্র পুনর্গঠন করতে চাই।”
নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “কেন নেব না? অবশ্যই নেব।”
প্রধানমন্ত্রী পদের প্রত্যাশী হিসেবে তাকে দেখা যাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটির সিদ্ধান্ত তো বাংলাদেশের জনগণের।”
খালেদা জিয়া কি নির্বাচনে কোনো ভূমিকায় থাকবেন—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, “আমি সেই দলের একজন কর্মী হিসেবে বিশ্বাস করি বা বিশ্বাস করতে চাই, গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যেই জনপ্রত্যাশিত নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, উনার শারীরিক সক্ষমতা যদি অনুমতি দেয়, নিশ্চয়ই উনি কিছু না কিছু ভূমিকা রাখবেন।”
ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি যেটা দেখলাম, বিভিন্ন মিডিয়াতে কিছু ব্যক্তি, যেমন মান্না ভাই—উনি তো বোধহয় দুবার ভিপি ছিলেন। আমার থেকে অনেক অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। আমরা যদি উনার বক্তব্য শুনে থাকি, তাহলে তো আমি মনে করি না কোনো কারণ আছে। ছাত্ররাজনীতি ছাত্ররাজনীতির জায়গায়, জাতীয় রাজনীতি জাতীয় রাজনীতির জায়গায়।”


