27.7 C
Dhaka
Tuesday, June 16, 2026

মরে প্রমাণ করা লাগবে আমরা অসুস্থ : আদালতকে দীপু মনি

advertisment
- Advertisement -spot_img

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর শাহবাগ থানার ঝুট ব্যবসায়ী মনির হত্যা মামলায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

রিমান্ড শুনানিতে সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের মৃত্যু প্রসঙ্গ টেনে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দীপু মনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। আমাদের মরে প্রমাণ করা লাগবে আমরা অসুস্থ ছিলাম।”

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক শাহবাগ থানার এ হত্যা মামলায় দীপু মনির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মাইনুল খান পুলক। অপরদিকে লালবাগ থানার শাওন সিকদার হত্যা মামলায় সোলায়মান সেলিমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা আবুল ফারেজ জুয়েল। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন।

এদিন শুনানিকালে কারাগার থেকে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ প্রহরায় তাদের আদালতে তোলা হয়। প্রথমে দীপু মনির রিমান্ড শুনানি শুরু হয়।

দীপু মনির পক্ষে তার আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি আদালতকে বলেন, “আমার মক্কেল দীর্ঘদিন ধরে হাজতে রয়েছেন। তিনি নারী হওয়ায় বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছেন। মামলার এজাহারে তার নাম ছাড়া কিছুই নেই। মামলার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। শুধু হয়রানির উদ্দেশ্যে তাকে এসব মামলায় জড়ানো হয়েছে। ইতিপূর্বে তাকে কয়েকবার রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আমরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন আবেদন করছি। এ বিষয়ে আসামি কিছু বলতে চান।”

পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে দীপু মনি বলেন, “গত মাসের ৯/১০ তারিখে আমি অসুস্থ হয়ে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে অন্য হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অনুমতি নেওয়া হয়। গতকাল হাসপাতালে নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পুলিশ স্কোয়াড না থাকায় নেওয়া হয়নি। ভাবছিলাম আজ হাসপাতালে নেওয়া হবে, কিন্তু দেখলাম আমাকে আদালতে আনা হয়েছে। পুলিশ স্কোয়াডের অভাবে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে না, অথচ আদালতে আনা হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। আমার যে চিকিৎসা দরকার, তা পাচ্ছি না।”

তিনি আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ৬০টিরও বেশি মামলা। কিন্তু আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি না। গত এক বছরে তিনবার আইনজীবীর সঙ্গে দেখা হয়েছে। আমাকে আদালতে আনার দিনই যেন হাজতখানায় আমার সঙ্গে আইনজীবীর কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া হয়, যাতে মামলার বিষয়ে কিছু আলোচনা করতে পারি।”

এর বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, “কারাবিধি অনুযায়ী সাক্ষাতের সুযোগ রয়েছে। তারা চাইলে জেলগেটে সাক্ষাৎ করতে পারে। মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্যই হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করছে।”

এ সময় দীপু মনি বলেন, “মাননীয় আদালত, সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। এখন আমাদের কি মরে প্রমাণ করা লাগবে আমরা অসুস্থ ছিলাম?”

তখন উপস্থিত কিছু আইনজীবী মন্তব্য করলে সাবেক এমপি সোলায়মান সেলিম বলেন, “এখানে লিগ্যাল আর্গুমেন্ট হচ্ছে, সবাই কি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী?” তখন পাশে থাকা কয়েকজন আইনজীবী বলেন, “গায়ে এখনো রক্তের দাগ লেগে আছে।”

প্রত্যুত্তরে সোলায়মান সেলিম বলেন, “তাই বলে কি আমরা চিকিৎসা পাব না?”

শুনানি শেষে আদালত দীপু মনির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি লালবাগ থানার শাওন সিকদার হত্যা মামলায় সাবেক এমপি সোলায়মান সেলিমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত। পরে পুলিশ প্রহরায় তাদের আবার আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।

মনির হত্যা মামলার বিবরণ
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শেষ দিন ৫ আগস্ট শাহবাগ থানার চানখারপুল এলাকায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন ক্ষুদ্র জুট ব্যবসায়ী মো. মনির। দুপুরে আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোজিনা আক্তার গত ১৪ মার্চ শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৩৫১ জনকে এজাহারনামীয় ও ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

শাওন সিকদার হত্যা মামলার বিবরণ
আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই বিকেলে রাজধানীর ইডেন কলেজের সামনে দিয়ে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান শাওন। এ ঘটনায় আত্মীয় পরিচয়ে গত ২১ জানুয়ারি মামলা করেন ইকবাল মজুমদার তৌহিদ। মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪০ জনকে আসামি করা হয়।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ