29 C
Dhaka
Monday, June 15, 2026

পিআর ইস্যুতে আন্দোলনের লক্ষ্যই হচ্ছে নির্বাচন বিলম্বিত করা: ফখরুল

advertisment
- Advertisement -spot_img

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পিআর পদ্ধতির দাবিতে আন্দোলনের লক্ষ্যই হচ্ছে নির্বাচন বিলম্বিত করা, যা জনগণ গ্রহণ করবে না।

রোববার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের মিলনায়তনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির উদ্যোগে ডেমোক্র্যাটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতি নিয়ে কথা বলছে এবং এর জন্য তারা আন্দোলন করছে। এর লক্ষ্য একটাই—নির্বাচন বিলম্বিত করা, জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, পিআর পদ্ধতি এই দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না। আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্ট করে বলেছি—জনগণ এই পদ্ধতি গ্রহণ করবে না। চাপিয়ে দেওয়া কোনো কিছুই এদেশের মানুষ মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, একটা কথা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই—অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের যে কমিটমেন্ট আছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন হবে। আমরা সেটাই দেখতে চাই। জনগণ নির্বাচন দেখতে চায়। সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায় এবং গণতন্ত্রের মাধ্যমেই জনগণ তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে চায়।

নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা জানি নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করেই যেকোনো দল জয়ী হতে পারে। জনগণই ঠিক করবে কোন দল ক্ষমতায় আসবে। যে দল অতীতে পরীক্ষিত, যারা সরকারে থেকে কাজ করেছে, যারা মানুষকে আশার আলো দেখিয়েছে, অন্ধকার থেকে আলোয় এনেছে—জনগণ তারাই বেছে নেবে।

একাত্তরের ইতিহাস

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই প্রথম সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেছিলেন এবং ‘আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস’ বাক্যটি যুক্ত করেছিলেন। এখন কিছু দল এই ইতিহাস বিকৃত করে বিএনপিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, যারা বয়সে কম তারা হয়তো জানে না, কিন্তু যারা দেখেছেন তারা জানেন—১৯৭৫ সালের নভেম্বরে কী পরিস্থিতিতে শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জাতি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশের পথে যাত্রা শুরু করেছিল। আজও আমরা সেই লক্ষ্যেই ঐক্যবদ্ধ—তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি স্বনির্ভর, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে।

ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জ

মির্জা ফখরুল বলেন, অনেক ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত আছে। কিন্তু সমস্ত ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত পরাজিত করার শক্তি বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেই রয়েছে। এই সামনের পরীক্ষা কঠিন। প্রতিদিন ইউটিউব, টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে সত্য-মিথ্যা নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, কিছু মানুষ চেষ্টা করছে আমাদের ১৯৭১ সালের ইতিহাস ভুলিয়ে দিতে। কিন্তু একাত্তরে যুদ্ধ হয়েছিল বলেই আমরা স্বাধীন হয়েছি, আর স্বাধীন হয়েছিলাম বলেই আজ নতুন রাষ্ট্রগঠনের চিন্তা করতে পারছি এবং দেশের মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের সংগ্রামে অংশ নিতে পারছি।

‘আলাউদ্দিনের চেরাগ নয়’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বয়স এক বছর চার মাস হয়েছে। জনগণ আশা করে না যে, আলাউদ্দিনের চেরাগ ঘষে রাতারাতি বাংলাদেশ বদলে যাবে। তবে জনগণ চায় পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটা শুরু হোক—যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

তিনি বলেন, আপনারা ইতোমধ্যে দেখেছেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান বিবিসি ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন এবং কীভাবে সেগুলোর সমাধান করতে চান তা ব্যাখ্যা করেছেন।

বেকারত্বসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানে বিএনপি ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করেছে এবং “অনেক কাজ সম্পন্ন” করে রেখেছে বলেও জানান তিনি।

ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় জাগপার খন্দকার লুফুর রহমান, গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ন্যাপের এমএন শাওন সাদিকী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ