27.2 C
Dhaka
Monday, June 15, 2026

তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবী স্বৈরাচারী হাসিনার ফ্যাসিবাদকে দীর্ঘায়িত করেছিল: সাদিক কায়েম

advertisment
- Advertisement -spot_img

ডাকসুর ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলন এবং তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবীর ভূমিকার কারণেই দেশে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ দীর্ঘায়িত হয়েছিল।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত শহীদ ইকরামুল হক সাজিদ স্মৃতি আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আবু সাদিক কায়েম বলেন, “মুক্তির জন্যই আমরা বিগত ১৬ বছর ধরে লড়াই করেছি। কিন্তু সমাজের কিছু বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও শিক্ষকের অংশ মুক্তির কথা বললেও কৌশলে শেখ হাসিনার জুলুম ও নির্যাতনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এসব বুদ্ধিজীবীদের ভেতরে ভণ্ডামি ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের শিবির ট্যাগ দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল। এই ক্যাম্পাসে শিবির ট্যাগ দিয়েই বিশ্বজিৎকে হত্যা করা হয়েছিল। শিবির বললেই সব বুদ্ধিজীবী চুপ হয়ে যেত। এভাবে তারা হিপোক্রেসি দেখিয়েছে। ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলন ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে দীর্ঘায়িত করা হয়েছিল।”

সাদিক কায়েম বলেন, “সম্প্রতি গুম কমিশনের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এককভাবে জামায়াত ও শিবির মিলে দেশে সবচেয়ে বেশি গুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বিএনপির পর আলাদা সংগঠন হিসেবে এককভাবে শিবিরই সবচেয়ে বেশি গুম-নির্যাতনের শিকার। আমাদের অনেক ভাই এখনো নিখোঁজ।”

শিক্ষা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের নিজেদের মধ্যে যৌক্তিক আলোচনা ও পর্যালোচনা অব্যাহত রাখা দরকার। এই জন্যই বিতর্কের প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আমরা এখনো প্রকৃত একাডেমিক ইনস্টিটিউট হিসেবে গড়ে তুলতে পারিনি। পাশের দেশ নেপালও শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় অনেক এগিয়ে গেছে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হলো ভালো মানুষ তৈরি করা—জ্ঞাননির্ভর সমাজ গড়ে তোলা। জবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি এই কাজে ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা রাখি।”

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিরোধী দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইতিহাস বিভাগ, আর সরকারি দল হিসেবে রানার্স আপ হয়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ। ফাইনাল বিতর্কে সেরা বিতার্কিক নির্বাচিত হন জয়ী দলের রুকসানা মিতু। বিতর্কের মোশন ছিল—‘জকসু নির্বাচনে এই সংসদ অরাজনৈতিক প্রার্থীদের সমর্থন দিবে’।

মোট ২৪টি দল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রত্যেক দলে তিনজন করে বিতার্কিক ছিলেন। বিতর্কটি ট্যাব ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রতিটি দল তিন রাউন্ড করে বিতর্কের সুযোগ পায়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন শাখা সেক্রেটারি আব্দুল আলিম আরিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ ইকরামুল হক সাজিদের বড় বোন ফারজানা হক

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ