28.6 C
Dhaka
Monday, June 15, 2026

জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে সরকারের উদাসীনতা উদ্বেগ বাড়িয়েছে : জুমা

advertisment
- Advertisement -spot_img

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক এবং ইনকিলাব মঞ্চ ঢাবি শাখার সদস্য সচিব ফাতিমা তাসমিন জুমা বলেছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক স্যাবোটেজ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে; একইসঙ্গে জুলাই আন্দোলনের আহত জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে সরকারের উদাসীনতা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

তিনি বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও কার্যকারিতা স্পষ্ট না হলে ওই সনদ কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের বিষয় ছিল— জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অস্পষ্টতা, সনদের আইনি ভিত্তির অনুপস্থিতি ও দেশের সার্বিক নিরাপত্তাহীনতা।

দেশে চলমান অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে ফাতিমা তাসমিন জুমা বলেন, “দেশের গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই স্থাপনাগুলোতে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোয় একটি কমন প্যাটার্ন দেখা যাচ্ছে— সব ঘটনাই অর্থনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকায় এবং সেখানে নিরাপত্তাহীনতা স্পষ্ট।” তিনি এয়ারপোর্টে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “কীভাবে এসব স্থানে স্যাবোটেজ ঘটছে, গোয়েন্দা সংস্থার নিষ্ক্রিয়তা উদ্বেগজনক।”

পুলিশি আচরণের নিন্দা জানিয়ে ডাকসুর এ নেত্রী বলেন, “জুলাইয়ে যারা একদম সামনে থেকে আহত হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন, চোখ হারিয়েছেন— তাদের ওপর পুলিশের যে এখনো ক্ষোভ রয়েছে, সেটার প্রমাণ আমরা আবারও দেখতে পেলাম। পুলিশ সংস্কারের কথা বারবার বলা হয়, কিন্তু বাস্তবে সেই সংস্কার কতটা হয়েছে, প্রশ্ন থেকে যায়।”

৭০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে করা চারটি মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই মামলাগুলোতে যারা আহত অবস্থায় রয়েছেন, তাদের হয়রানি থেকে মুক্তির নিশ্চয়তা থাকা দরকার।”

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কোনো হয়রানিমূলক মামলা চলবে না এবং তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”

ফাতিমা তাসমিন জুমা আরও বলেন, “আতিকুল কাজী জুলাই আন্দোলনে একবার হাত হারিয়েছিলেন। আবারও তার ওপর পুলিশ হামলা করেছে— এটা কি পুলিশ জানে না তিনি কে? এটা তাদের ক্ষোভের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।”

ইনকিলাব মঞ্চের নেতা আব্দুল্লাহ আল জাবির বলেন, “৩৩টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে তৈরি খসড়ার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অস্পষ্ট। নোট অব ডিসেন্ট রয়ে গেলে এটা কীভাবে সত্যিকারের জাতীয় সনদ হিসেবে গণ্য হবে?”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা— যেমন পিলখানা হত্যাকাণ্ড— উল্লেখ করা হয়নি, যা সনদের সার্বজনীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”

আব্দুল্লাহ আল জাবির সরকারের উদ্দেশে বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা ও হয়রানি রোধের আশ্বাস দিতে হবে এবং সনদের আইনগত ভিত্তি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা দ্রুত স্পষ্ট করতে হবে।”

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ