ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ভোটাররা চাইলে একক প্রার্থীর বিপরীতে ‘না’ ভোট দিতে পারবেন। তিনি জানান, যে আসনে কেবল একজন প্রার্থী থাকলে সেখানে ‘না’ ভোটের বিধান রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানটিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আপনাদের ২০১৪ সালের ভুয়া নির্বাচনের স্মৃতি নিশ্চয়ই আছে—তখন ১৫৪টি আসনে একজন প্রার্থী ছিলেন এবং তা সাজানো নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। এ ধরনের পরিস্থিতি আর যেন না হয়—তার জন্যই একজন প্রার্থী থাকলে ভোটাররা ‘না’ ভোট দিতে পারবে। প্রার্থী যদি পছন্দ না হন, ভোটাররা ‘না’ দিবে; এরপর সেখানে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, জোটভিত্তিক প্রার্থীতায় যদি কোনও নির্বাচনী জোট হয়, তবুও জোটের অংশ হলেও নির্ধারিত দলের প্রতীকেই নির্বাচন করানো হবে, যাতে ভোটাররা পরিষ্কারভাবে জানতে পারেন কোন দলের প্রার্থী তারা বেছে নিচ্ছেন।
পোস্টাল ব্যালেট সম্পর্কে ড. আসিফ বলেন, নির্বাচনে যারা কাজে ব্যস্ত থাকেন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রিজাইডিং অফিসার বা অন্যান্য অফিসাররা—তারা যাতে ভোট থেকে বঞ্চিত না হন, তাদের জন্য পোস্টাল ব্যালেটের ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে। একইভাবে প্রবাসী ভোটাররাও পোস্টাল ব্যালেটের মাধ্যমে ভোট দেবেন। তিনি আরও জানান, ভোট কাউন্টিংয়ের স্থলে মিডিয়া থাকতে পারবে—এটাও বিধান করা হয়েছে।
ভোট তহবিল ও অনুদান সংক্রান্ত নতুন নিয়ম সম্পর্কে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলকে দেয়া যে কোনো অনুদান বা দান-চাঁদা যদি ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি হয়, তা অবশ্যই ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দিতে হবে এবং অনুদানদাতাকে তার ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হবে।
শেষে তিনি উল্লেখ করেন, পুরনো আইনে কোনো একক ভোটকেন্দ্রে গণ্ডগোল হলে কেবল সেই কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করার বিধান ছিল। কিন্তু নতুন আইন অনুযায়ী, যদি কোনো নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়ে, তবে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ ওই নির্বাচনী এলাকার ভোট বাতিল করার ক্ষমতা পেয়েছে।


