28.6 C
Dhaka
Monday, June 15, 2026

শেখ হাসিনার ১৫ বছরের সঙ্গে বর্তমান শাসনব্যবস্থার খুব বেশি পার্থক্য নেই: রুমিন ফারহানা

advertisment
- Advertisement -spot_img

বিএনপির সহ–আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা বলেছেন, আপনি যদি খুব নিরপেক্ষভাবে দেখেন, তাহলে দেখবেন শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনব্যবস্থার সঙ্গে গত এক বছর দুই মাসের শাসনের খুব একটা পার্থক্য নেই।

সম্প্রতি ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, “আমরা চৌদ্দ বা পনের বছরে দেখেছি শেখ হাসিনার আমলে এমনকি যিনি পিয়নের চাকরি করেছেন, তিনিও ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। এখন এই সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা—যারা মন্ত্রী পদমর্যাদায় আছেন—তাদের এপিএসদের দুর্নীতির খবর আমরা শুনছি, গণমাধ্যমে আসছে; কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তখন শেখ হাসিনার সময়ের কথাই মনে পড়ে। কারণ তিনি তখনও শুধু গণভবন থেকে কাউকে বের করে দেওয়ার বাইরে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেননি। এখনো একই চিত্র—অভিযোগ যতই আসুক, কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “উপদেষ্টা হিসেবে যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের সম্পদের হিসাব দেওয়ার কথা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শুরুতেই বলেছিলেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো উপদেষ্টার সম্পদের তথ্য আমার চোখে পড়েনি। একজন–দুজন হয়তো দিয়েছেন, কিন্তু তা পুরো মন্ত্রিসভাকে প্রতিনিধিত্ব করে না।”

উপদেষ্টাদের অনিয়ম প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, “আমরা কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখছি না। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের উপদেষ্টা পরিষদের একজন ছাত্র উপদেষ্টা আছেন—আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ এসেছে। আপনি বলতে পারেন, বিএনপির সঙ্গে তার মনোমালিন্যের কারণে হয়তো এই অভিযোগগুলো উঠছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে অভিযোগগুলো খারিজ করতেও তো তদন্তের প্রয়োজন ছিল, তাই না? এমন ন্যূনতম তদন্তও আমরা দেখিনি।”

তিনি যোগ করেন, “অন্য উপদেষ্টারা সবাই তুলসীপাতা কিনা জানি না, তবে তাদের পিএস–এপিএসদের বিরুদ্ধেও ভয়াবহ অভিযোগ এসেছে। আমি মনে করি, উপদেষ্টাদের কোনো রকম সম্মতি বা অনুমোদন ছাড়া শুধুমাত্র পিএস–এপিএসদের পক্ষে এত লুটপাট করা সম্ভব নয়। কাজটা মূলত উপদেষ্টাদের মাধ্যমেই হয়—কারণ চূড়ান্ত স্বাক্ষর তো উপদেষ্টারই থাকে, আর সেই সই নিতেই এই দুর্নীতিগুলো ঘটে।”

অন্তর্বর্তী সরকার কীভাবে দেশ চালাচ্ছে—এই বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “যারা খুব নরমভাবে সরকারের সমালোচনা করেন, তাদের ভাষায় প্রধান উপদেষ্টা খুব ‘নরম হাতে’ দেশ চালাচ্ছেন। আর যারা খোলাখুলি সমালোচনা করেন, তাদের মতে তিনি সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত—দেশে কী হচ্ছে, কী হচ্ছে না, দেশ কোথায় যাচ্ছে—এসব নিয়ে তার কোনো আগ্রহ নেই। মনে হয়, বিষয়টিকে তিনি যেন খেলাচ্ছলে নিচ্ছেন।”

তিনি বলেন, “দেশ চালানোটা কোনো খেলা নয়। এটা তার টাইমপাস করার বিষয় নয়। এখানে ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য জড়িয়ে আছে। উনি হয়তো দেশের বাইরে চলে যাবেন, সম্মানের সঙ্গে উন্নত বিশ্বে থাকবেন। কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ মানুষ, যারা এই দেশেই জন্মেছি, জীবন কাটাবো এবং এখানেই মারা যাবো—তাদের জন্য উনার এই কর্মকাণ্ডগুলো খুব স্বস্তিদায়ক নয়। প্রধান উপদেষ্টা দেশের চেয়ে বিদেশে থাকাকেই বেশি আরামদায়ক মনে করেন—যেমনটি দেখা যায়, তিনি বিদেশি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে দেশীয় গণমাধ্যমের চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এটা বলতে সত্যিই দুঃখ লাগে।”

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ