জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর)। মামলাটির আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল–মামুন।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি সফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত শেখ হাসিনার আইনজীবী আমির হোসেন আশা প্রকাশ করেছেন, ট্রাইব্যুনাল তাদের খালাস দেবে।
এক সংবাদ সম্মেলনে (১৩ নভেম্বর) আইনজীবী আমির হোসেন বলেন, “আমি বিচারের কোনো অস্বস্তি দেখিনি। আমাকে কেউ বাধা দেয়নি। আমি আমার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। মামলা পরিচালনায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দলিল–দস্তাবেজ আমাকে দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত ডকুমেন্টের ভিত্তিতেই আমি যুক্তি উপস্থাপন করেছি।”
মামলায় তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল–মামুন একমাত্র আসামি যিনি গ্রেপ্তার হয়ে ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
অন্য দুই আসামি—শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল—এখনও পলাতক রয়েছেন।
ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে।
এর আগে গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। আইসিটি তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১২ মে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল–মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল।


