বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যর্থ করে দেওয়ার পর দেশের মানুষের মধ্যে যে বিশাল পরিবর্তন, প্রত্যাশা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি হয়েছে—এটিকে যদি রাজনৈতিক দলগুলো ধারণ করতে না পারে, তাহলে কোনো রাজনীতিবিদ বা রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ নেই।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, “আগামী নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশ পরিচালনা করেছিলেন, সেই ধারণাগুলো আবার ফিরে আসবে। সেই ভিত্তিতেই আমরা এখন সব কাজ করছি। আগামী দিনের স্বাস্থ্যখাত, শিক্ষা খাত, কর্মসংস্থান, পরিবেশ, নারী ও শিশুদের বিষয়—সবকিছুর ওপর ভিত্তি করে আমরা আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়েছি। ইতোমধ্যে আমাদের কাজ প্রায় শেষের পথে।”
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক নাগরিককে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং দেশের পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় অংশীদার হতে হবে, এবং এ পরিবর্তনের সুফল জনগণের কাছেই পৌঁছাতে হবে। বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রশ্নোত্তর পর্ব রাখা হচ্ছে—রাজনীতিবিদদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই এটি করা হচ্ছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, “আমরা যে গণতন্ত্রের কথা বলছি, তাকে সফল করতে হলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনীতিবিদরা যদি প্রশ্নের সম্মুখীন না হন, তাহলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে রাজনীতিতে সহনশীলতা বাড়াতে হবে; কারও সঙ্গে দ্বিমত থাকলেও তার মতের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। এই সংস্কৃতি না আনতে পারলে শত সংস্কার করেও কোনো পরিবর্তন আসবে না।”
তিনি জানান, বিএনপির বিরুদ্ধে সরকারি অপপ্রচার ও নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো হলেও বিএনপি একই ভাষায় প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের ভাষায় কথা বলছি—রাজনীতির ভাষায়, গণতন্ত্রের ভাষায়। এটিই ধারণ করতে হবে এবং এটাই হবে আগামী দিনের বাংলাদেশের রাজনীতি।”
আমীর খসরু বলেন, তারা ছোটখাটো বিষয় না দেখে বড় চিত্রের দিকে নজর দিচ্ছেন। আর সেই বড় চিত্রটি হলো—বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণের ভবিষ্যৎ। বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও সবার দৃষ্টি নির্বাচনের দিকে নিবদ্ধ হয়েছে এবং বিএনপিও সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে স্বাস্থ্যখাতে প্রত্যেক নাগরিককে বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হবে। শিক্ষা খাতে বড় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে—সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা যুক্ত করা হবে। এছাড়া বিএনপি আঠারো মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যেখানে আত্মকর্মসংস্থানেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়নের কথা বলছি—এটা আগে কেউ বলেনি। শুধু রাজনীতি নয়, অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়ন করে এর সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, প্রত্যেক নাগরিককে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা—আমাদের নতুন অর্থনৈতিক মডেল রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখবে।”


