সকালের ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানান গুজবের দৌরাত্ম্য। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ভুয়া ছবি ও ভিডিও, যার বেশির ভাগই এআই–নির্মিত বা অন্য দেশের পুরোনো ফুটেজ। কোথাও দাবি করা হচ্ছে মেট্রোরেলের ভায়াডাক্ট ভেঙে গেছে, আবার কোথাও গাজীপুরে ভবন ধসের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এমনকি নীলক্ষেত–নিউমার্কেট এলাকার একটি ভবন হেলে পড়েছে—এমন গুজবও ভাইরাল হয়, যদিও ভবনটির নকশাই এমন এবং বাস্তবে কোনো ক্ষতি হয়নি।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দেখা যায়, বিভিন্ন নামসর্বস্ব গ্রুপ–পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে এসব গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে এআই–নির্মিত ভিডিও ও মনগড়া দাবি পোস্ট করা হচ্ছে কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে, যা অল্প সময়েই ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। এসব ভিডিওর কিছুতে ঢাকার মেট্রোরেলের ভায়াডাক্ট ভেঙে পড়ার দৃশ্য দেখানো হয়েছে, আবার কোথাও গাজীপুরে একটি কারখানায় ধস নেমেছে বলে দাবি করা হচ্ছে; কিন্তু সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
এ ছাড়া অন্য দেশের ভূমিকম্প–পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওও বাংলাদেশের বলে প্রচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নীলক্ষেত–নিউমার্কেট এলাকার একটি ভবন হেলে পড়েছে—এমন দাবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভবনটির নকশাই এভাবে করা, সেখানে কোনো ধস বা কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি।
এর মধ্যেই প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বার্তায় বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় জনমনে যে উদ্বেগ বা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, সরকার তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবিলম্বে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে আজ সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, এই ভূমিকম্পটি মধ্যম বা মডারেট মাত্রার—খুব বেশি শক্তিশালী না হলেও স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। সাধারণত ৪.৫ থেকে ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্পে মাটি স্পষ্টভাবে কেঁপে ওঠে; ঘরের ভেতর হালকা বস্তু নড়তে পারে, তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি সাধারণত ঘটে না। মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে আফটারশকের সম্ভাবনা থাকে, যদিও তা সবসময় তীব্র নাও হতে পারে।


