ঢাকায় দুই দিনে তিন দফা ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশের জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী বলেছেন, ভূমিকম্প মানবজাতির দুর্বলতা ও অসহায়ত্বের একটি গভীর স্মারক। শনিবার সকালে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
আজহারী বলেন, “সকালের ভূমিকম্পে যখন আমাদের বিল্ডিংটা দুলছিল, তখন কিছু মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আতঙ্কে বুকটা কাঁপছিল। আর কয়েকটা ঝাঁকুনি দিলে হয়তো আজ ঢাকায় লাশের মিছিল হতো। দয়াময় আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন—তিনি বড়ই মেহেরবান।”
তিনি আরও বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং দুর্বল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। “এই দুর্যোগগুলো আমাদের জন্য গভীর সতর্কবার্তা। সামান্য এক ঝাঁকুনি দিয়ে আল্লাহ যেন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন—চাইলে তিনি এক মুহূর্তেই আমাদের সভ্যতাকে তছনছ করে দিতে পারেন।”
কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে আজহারী বলেন, মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। “আসলে ভূমিকম্প আসে আমাদের অহংকার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে। আসে দেখিয়ে দিতে যে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর সামনে আমরা কতটা অসহায়।”
তিনি উল্লেখ করেন, অনেক মানুষ পরিকল্পনা নিয়ে ঘর থেকে বের হলেও মৃত্যুর ডাক আসলে কিছুই নিয়ন্ত্রণে থাকে না। জীবন ও মৃত্যুর অনিশ্চয়তা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমাদের জীবনে মৃত্যু পরিকল্পনায় থাকে না। অথচ নির্ধারিত সময় এলে সব ব্যস্ততাই শেষ হয়ে যাবে। আমিহীন দুনিয়া তখনো চলবে আগের মতো।”
মৃত্যু ও পরকালের কথা স্মরণ রাখার আহ্বান জানিয়ে মাওলানা আজহারী বলেন, “যে কোনো সময় মৃত্যু আসতে পারে। তাই সর্বদা প্রস্তুত থাকা উচিত। তওবা করে রবের কাছে ফিরে আসা উচিত।”
শেষে তিনি সুরা ওয়াকিয়ার আয়াত উল্লেখ করে বলেন, “এ তো কিছুই না। প্রকৃত ভূমিকম্প সেই দিনই হবে, যখন জমিন প্রবল কম্পনে কাঁপবে, পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধূলায় পরিণত হবে।”


