27.2 C
Dhaka
Sunday, June 14, 2026

অনির্বাচিত সরকারের বন্দর বা এলডিসি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নেই: তারেক রহমান

advertisment
- Advertisement -spot_img

অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের বন্দর বা এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই বলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “একটি দেশ যেই সরকারকে নির্বাচিত করেনি, সেই সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না।”

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল এবং ঢাকার পানগাঁও নৌ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে হস্তান্তরের আলোচনা চলাকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

“যে সিদ্ধান্তে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, সে সিদ্ধান্তে তারা ভোট দেয়নি”

প্রতিক্রিয়ার শুরুতে একটি ছোট পোশাক কারখানার মালিক ও একজন তরুণ স্নাতকের বাস্তব সংকটের গল্প তুলে ধরে তারেক রহমান লেখেন, এলডিসি–সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলোর কারণে সাধারণ মানুষের জীবনে যে চাপ তৈরি হয়েছে, এসব সিদ্ধান্ত তারা কখনও প্রত্যক্ষভাবে অনুমোদন করেনি, বরং তাদের মতামতও নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, “এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয়ে আমরা যেমনটা দেখেছি, চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়েও তা-ই দেখা যাচ্ছে। সব কৌশলগত বিকল্প বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে—দ্রুততার অজুহাতে যৌক্তিক উদ্বেগগুলোকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।”

“২০২৬ সালের সময়সীমা এগিয়ে আনা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত”

তারেক রহমান জানান, এলডিসি থেকে ২০২৬ সালে উত্তরণের সময়সূচিকে আগিয়ে আনা একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যা কোনো নির্বাচনী ম্যান্ডেটবিহীন অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে গ্রহণ করা অনৈতিক।

জাতিসংঘের নিয়ম তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ধাক্কা লাগলে উত্তরণের সময়সীমা নমনীয় করার উদাহরণ অ্যাঙ্গোলা ও সামোয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশেরও আলোচনার সুযোগ ছিল।

চট্টগ্রাম বন্দরের সিদ্ধান্ত “রুটিন ওয়ার্ক নয়”

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়ে নেওয়া সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো দেশের কৌশলগত সম্পদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। এগুলো কোনোভাবেই রুটিন কাজ নয়, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে প্রভাবিত করবে।

“একটি অন্তর্বর্তী সরকার, যাদের কোনো গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট নেই, তারা এমন জাতীয় সম্পদের বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দেওয়ার অধিকার রাখে না”— মন্তব্য তারেকের।

“এটা কাউকে আক্রমণ নয়, নীতি সুরক্ষার বিষয়”

তারেক রহমান বলেন, এটি ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্য নয়। বরং দেশের প্রতিষ্ঠান ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্বার্থ রক্ষা করাই মূল বিষয়।

তিনি আরও বলেন, “একটি দেশ যে সরকারকে নির্বাচিত করেনি, সেই সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। কৌশলগত ধৈর্য কখনোই দুর্বলতা নয়।”

দৃষ্টি ২০২৬ সালের নির্বাচনের দিকে

তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশের মানুষ কখনো তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নীরব থাকে না। দেশের মানুষের সম্মান, মতপ্রকাশ এবং সিদ্ধান্তের অধিকার নিশ্চিত করতেই ২০২৬ সালের নির্বাচনের দিকে তিনি আশাবাদী।

“এই দেশের ভবিষ্যৎ গঠিত হবে তাদের দ্বারা, যারা এখানে বাস করে এবং বিশ্বাস করে—সবার আগে বাংলাদেশ”— পোস্টের শেষাংশে লিখেছেন তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ