তিনি বলেছেন, নির্বাচন বলতেই আমরা অতীতের কিছু নির্বাচনের কথা মনে করি—চট করে মনে আসে। প্রহসনের নির্বাচন, প্রতারণার নির্বাচন, তামাশার নির্বাচন—এই বিশেষণগুলোই বেশি শুনি। সেখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এই দূরত্বটুকু আমাদের অতিক্রম করতেই হবে।
আজ (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এই পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ঐতিহাসিক নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য দৈবচয়নের মাধ্যমে ৬৪ জেলার পুলিশ কর্মকর্তা নির্বাচন করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল যেন কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব না হয়। নিজের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে অনেক সময় শত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পক্ষপাতিত্ব ঢুকে পড়ে। তাই দৈবচয়ন করা হয়েছে, যেন কারো মধ্যে কোনো রকম পক্ষপাতিত্ব না থাকে।
তিনি আরও বলেন, আপনারা সাধারণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন—এ দিক থেকে সবই হবে, কিন্তু এবার আপনারা একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। এই নির্বাচন যেন ইতিহাসে স্থান পায়। বাইরে থেকে যারা পরিদর্শন করবে, পর্যবেক্ষকরা আসবে—তারা আমাদের খুঁত ধরার চেষ্টা করবে, বলবে—এটা হয়নি, ওটা হলে ভালো হতো। কিন্তু এবারের নির্বাচন এমন হতে হবে, যা তারা স্মরণ করবে—বাংলাদেশের নির্বাচন আমরা দেখেছিলাম। তারা নানা দেশে গিয়ে বলবে—এটা দৃষ্টান্ত। তাদের মনে গেঁথে থাকবে—এ রকম নির্বাচন আমরা কখনও দেখিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটা কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। পাঁচ বছর পরপর একটা নির্বাচন হয়, সরকার পরিবর্তন হয়—এটা রুটিন কাজ। কিন্তু এবারের নির্বাচনের আন্ডারলাইন করা বিষয়টি হলো—এটা গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী নির্বাচন। গণঅভ্যুত্থানে যারা শরিক হয়েছিলেন, আমরা যারা এতে যুক্ত আছি—তাদের আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই আমরা সেই স্বপ্নকে এগিয়ে নেবো।


