২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স্বামী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশ ছাড়েন ডা. জুবাইদা রহমান। সেই থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসেই কাটাতে হয়েছে তাকে। এবার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার খবরে তিনি আবারও লন্ডন থেকে ঢাকায় আসায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার রাজনৈতিক ভূমিকা।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত মেডিকেল বোর্ডে সদস্য হিসেবে রয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরে তিনি সরাসরি শাশুড়িকে দেখতে হাসপাতালে যান।
দলের কঠিন সময়ে তার এসব দায়িত্বপূর্ণ চলাফেরা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তুলেছে—
বিএনপির দুঃসময়ে যেমন বেগম খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেছিলেন, জুবাইদা রহমানও কি সেই পথেই হাঁটছেন?
রাজনীতিতে জুবাইদার সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা কতটা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দেশের একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন এবং রাজনীতির বিভিন্ন স্তরের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
সুতরাং সরাসরি রাজনীতিতে নামলে তা বিএনপির জন্য নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
তাদের মতে—
- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে থাকা শূন্যতা জুবাইদার উপস্থিতিতে অনেকটাই পূরণ হতে পারে।
- এতে দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য আরও দৃঢ় হবে।
- নৈতিক ভিত্তি এবং জনসমর্থনও পুনরুজ্জীবিত হতে পারে।
তারেক রহমান যা বলেছিলেন
গত অক্টোবরের শুরুতে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্ত্রী বা মেয়ের রাজনীতিতে আসা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন,
“রাজনীতিতে পরিবারকরণ হয় না; রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে হয় গ্রহণযোগ্যতা, সংগঠিত করার ক্ষমতা এবং জনগণের সমর্থনের ভিত্তিতে।”
তিনি আরও যোগ করেন—
“যে অর্গানাইজ করতে পারবে, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবে, দলকে সামনে নিতে পারবে—সেই এগিয়ে যাবে। আর যিনি পারবেন না, তিনি এগোতে পারবেন না।”
নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা
বিএনপির দীর্ঘ দুঃসময়ে বেগম খালেদা জিয়া যেমন দৃঢ় নেতৃত্ব দেখিয়ে দলকে টিকিয়ে রেখেছিলেন, তেমনি এখন ডা. জুবাইদা রহমানের দায়িত্বশীল ও সক্রিয় অবস্থান দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
চূড়ান্তভাবে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হবেন কি না—তা এখনো সময়ের অপেক্ষা। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার আগমনেই বিএনপির ভেতরে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।


