27.2 C
Dhaka
Sunday, June 14, 2026

আদালত অবমাননা অভিযোগে ব্যাখ্যা দিতে ট্রাইব্যুনালে বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান

advertisment
- Advertisement -spot_img

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করায় আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যাখ্যা দিতে হাজির হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুর রহমান। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার পর আইনজীবীদের বড় দল নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন।

তার সঙ্গে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী।

এদিন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে তার বিরুদ্ধে আনা আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও পূর্বেই ফজলুর রহমান লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। গত ৩ ডিসেম্বর সে তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, ফজলুর রহমান ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চেয়ে একটি আবেদন দাখিল করেছেন এবং স্বীকার করেছেন যে তিনি যা বলেছেন তা ভুলবশত বলেছেন। আদালতের অনুকম্পা প্রার্থনা করতেই তার ক্ষমাপ্রার্থনা।

এর আগে ৩০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ ফজলুর রহমানকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন। ওইদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ—
১. ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারকে চ্যালেঞ্জ করা
২. আদালতের নিরপেক্ষতা নিয়ে ‘অভ্যন্তরীণ বন্দোবস্ত’ আছে বলে দাবি
৩. প্রসিকিউশন নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য

এই তিন কারণে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগের প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ২৬ নভেম্বর, আর বাকি অংশ ৩০ নভেম্বর শেষ হয়।

অভিযোগ ওঠার সূত্র—২৩ নভেম্বর টোয়েন্টিফোর টিভির টকশো ‘মুক্তবাক: রাজনীতির তর্ক-বিতর্ক’। সেখানে ফজলুর রহমান বলেন—

  • “আমি প্রথম দিন থেকেই বলছি এই কোর্ট মানি না।”
  • “এই আদালতে শেখ হাসিনার বিচার হতে পারে না।”
  • “প্রসিকিউশনের সবাই শিবির সমর্থিত।”

৪৯ মিনিটের সেই টকশোর সম্পূর্ণ ভিডিও পেনড্রাইভে সংরক্ষণ করে ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় প্রসিকিউশন। আদালতে ভিডিওর কিছু অংশও বাজানো হয়।

প্রসিকিউটর তামিম দাবি করেন, ট্রাইব্যুনালের আইনগত কাঠামো না বুঝেই ফজলুর রহমান এসব মন্তব্য করেছেন। তিনি ট্রাইব্যুনালের গঠনতন্ত্র ভুল ব্যাখ্যা করেছেন এবং বলেছেন যে এই আদালত কেবল ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার জন্য গঠিত হয়েছে—যা সঠিক নয়।

ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট জানায়—
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩ সালে প্রণীত।
এই আইনে ১৯৭৩ সালের আগে ও পরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার ট্রাইব্যুনালের রয়েছে।

ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা শেষে ট্রাইব্যুনাল মন্তব্যগুলোকে ‘গুরুতর অভিযোগ’ হিসেবে চিহ্নিত করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ৮ ডিসেম্বর তাকে সশরীরে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ