স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তিনি আজ (বুধবার) সকালে সম্পদের বিবরণী দাখিল করেছেন এবং নিজের কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করেছেন। বিকেলে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
আসিফ মাহমুদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন তিনি। “কতটা পেরেছি, সেটা দেশবাসী বলবে,”—যোগ করেন তিনি।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত
তিনি নিশ্চিত করে বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তিনি অংশ নেবেন। তবে কোন দল বা কোন আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
“ধরে নেওয়া ঠিক নয় যে, এনসিপিতেই যোগ দেবো। কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে,”—বলেন তিনি।
উপদেষ্টা পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনগত বাধা না থাকলেও নৈতিকতার প্রশ্ন আছে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গুঞ্জন ও অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য
ধানমণ্ডি আসন থেকে বিএনপির হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধানমণ্ডিতে বিএনপি ইতোমধ্যে প্রার্থী দিয়েছে। সে কারণে এসব অনুমান সঠিক নয়।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, তার ক্ষেত্রে কেউ কেউ বাকস্বাধীনতার অপপ্রয়োগ করেছে।
“বাকস্বাধীনতা থাকবে, তবে সেটির সঠিক ব্যবহারের দায়িত্ব সবার,”—মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের এপিএস মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, বিষয়টি তদন্তের জন্য তিনি দুদককে অনুরোধ করেছেন। এখন এটি পুরোপুরি দুদকের এখতিয়ারেই রয়েছে।
উপদেষ্টা পরিষদের অবস্থা
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের শুরুতেই আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব পান। প্রথমে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেও পরবর্তীতে তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টাসহ মোট ২৩ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ রয়েছে। তিনি পদত্যাগ করলে উপদেষ্টার সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ২১-এ।


