28.7 C
Dhaka
Wednesday, June 10, 2026

সারজিস আলমের আয়ের তথ্যে গরমিল, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেবে দুদক

advertisment
- Advertisement -spot_img

পঞ্চগড়-১ (সদর–তেঁতুলিয়া–আটোয়ারী) আসনের প্রার্থী সারজিস আলমের নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হলফনামায় আয়ের তথ্যে গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন বলেন, পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলমের হলফনামায় যদি সুনির্দিষ্ট তথ্যভিত্তিক অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এবং বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী সারজিস আলমের হলফনামায় প্রদর্শিত আয়ের সঙ্গে তার আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা আয়ের মধ্যে অসংগতি রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ২৭ বছর বয়সী সারজিস আলম হলফনামায় নিজের পেশা ‘ব্যবসা’ উল্লেখ করে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। তবে ২০২৫–২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্নে তার বার্ষিক আয় উল্লেখ করা হয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা, যা হলফনামায় দেখানো আয়ের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি।

আয়ের পাশাপাশি সম্পদের হিসাবেও অসংগতি থাকার অভিযোগ উঠেছে। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী সারজিস আলমের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা হলেও হলফনামায় তুলনামূলকভাবে অনেক কম সম্পদের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

হলফনামা অনুযায়ী, তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ১ লাখ টাকা এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থাবর সম্পদের তালিকায় উপহার হিসেবে পাওয়া ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষিজমির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকা। নথি অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ করবর্ষে তিনি ৫২ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।

নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণীতে সারজিস আলম উল্লেখ করেন, চারজন শুভাকাঙ্ক্ষীর (আত্মীয় নন) কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা উপহার পাওয়ার আশা করছেন। পাশাপাশি একজন ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া শ্বশুর-শাশুড়ি এবং চাচা-মামাদের কাছ থেকেও উপহার হিসেবে অর্থ পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন তিনি। তবে ইসি ওয়েবসাইটে আপলোড করা হলফনামার স্ক্যান কপিতে টাকার অঙ্ক আংশিক অস্পষ্ট থাকায় সঠিক পরিমাণ স্পষ্ট নয়।

দৃশ্যমান তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, প্রত্যেকের কাছ থেকে তিনি অন্তত ১ লাখ টাকা করে পেতে পারেন। পাশাপাশি শ্যালকের কাছ থেকে অন্তত ১ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার তথ্যও উল্লেখ রয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ