26.9 C
Dhaka
Wednesday, June 10, 2026

হাদির হত্যার বিচার যাতে না হয় সেই ষড়যন্ত্র চলমান: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

advertisment
- Advertisement -spot_img

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে সরকারের ভেতরে ও বাইরে নানা মহল জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটির দাবি, এই হত্যার বিচার যাতে না হয়, সে লক্ষ্যে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিচার প্রক্রিয়া, অভিযোগপত্র দাখিল এবং আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে টালবাহানা করা হচ্ছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ এসব কথা বলেন।

রিফাত রশিদ বলেন, “বাংলাদেশের ইন্টেলিজেন্স যদি একজন আসামিকেও ধরতে না পারে, তাহলে সেটি গভীর সন্দেহের জন্ম দেয়। বরং আসামিকে যাতে না ধরা হয়, সে ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেই আমাদের ধারণা।”

তিনি অবিলম্বে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান এবং বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা কুশীলবদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা কোনো ছাড় দেবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। রিফাত রশিদ আরও বলেন, “এই হত্যার বিচার নিশ্চিত না করে যারা নির্বাচনের মাঠে যাচ্ছেন, বাংলাদেশের জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।”

এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আগের দাবিগুলো কিছুটা সংশোধন করে নতুন করে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন তিনি।

দাবিগুলো হলো—
১. মাহাদী ও সুরভিকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং ওমর ফারুকসহ সব হেনস্তাকারী পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি প্রদান করে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অবিলম্বে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
৩. জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ সামরিক, আধা-সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সব কর্মকর্তা, সৈনিক ও কর্মচারীদের অবদান ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে যেন তাদের হয়রানি না করা হয়, সে লক্ষ্যে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করতে হবে। পাশাপাশি ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্যাসিবাদের রোষানলে পড়ে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদে পদায়নের দাবি জানান তিনি।

রিফাত রশিদ বলেন, “জুলাইয়ে যেভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার ভ্যানগার্ড হয়ে উঠেছিল, আবারও আমরা নতুন করে এই প্ল্যাটফর্মকে জুলাই বিপ্লবীদের ভ্যানগার্ড হিসেবে ঘোষণা করছি। বাংলাদেশের এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় এক দফা হলো—শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার চাই।”

কর্মসূচি ঘোষণা

সংবাদ সম্মেলন থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কয়েকটি কর্মসূচিও ঘোষণা করে—

১. জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যেসব থানা এলাকায় ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জেলা পুলিশ সুপার (এসপি)সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে।

২. ‘ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স’ (দায়মুক্তি অধ্যাদেশ) রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে জারি নিশ্চিত করতে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন বৃহত্তম দুটি জোটের প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাইয়ের বৈপ্লবিক চেতনাকে সংরক্ষণ এবং জুলাই বিপ্লবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ