28.7 C
Dhaka
Wednesday, June 10, 2026

দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়: হাইকোর্ট

advertisment
- Advertisement -spot_img

মুসলিম আইন অনুযায়ী পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ হলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় তা দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অপরাধ ও নৈতিকতার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। তবে হাইকোর্টের এক রায়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কোনো মুসলিম পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক নয়।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত ২৪ পৃষ্ঠার একটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।

মুসলিম পারিবারিক আইন সংক্রান্ত একটি রিটের ওপর দেওয়া এ রায়ে আদালত বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি স্ত্রীর নয়, বরং সংশ্লিষ্ট আরবিট্রেশন কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত। ফলে স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ—এমন কোনো বিধান প্রচলিত আইনে নেই।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষকে অবশ্যই আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হবে। তবে এ আইনে কোথাও প্রথম স্ত্রীর অনুমতিকে বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে প্রচলিত ধারণা—স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ—আইনের সরাসরি ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন আদালত।

আদালত আরও বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা যেহেতু আরবিট্রেশন কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত, সেহেতু স্ত্রী অনুমতি না দিলেই বিয়ে অবৈধ হয়ে যাবে—এমন ব্যাখ্যা আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে তৈরি হয়েছে। কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, আর্থিক সক্ষমতা ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে—এটাই আইনের মূল উদ্দেশ্য।

আইনগত প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে রায়ে বলা হয়, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৯৪ ধারায় দ্বিতীয় বিয়ের জন্য সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর পুরুষের ক্ষেত্রে সেই কঠোরতা শিথিল করা হয়। নতুন আইনে দ্বিতীয় বিয়েকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে তা আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল করা হয়। অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন রিটকারীরা। তাঁদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে বহুবিবাহের ক্ষেত্রে নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তাঁরা রিটটি করেছিলেন।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ