20 C
Dhaka
Thursday, January 15, 2026

মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন, আনিসুল–সালমানের বিচার শুরু

advertisment
- Advertisement -spot_img

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে হত্যাসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারের পর প্রায় দেড় বছর ধরে কারাগারে থাকা সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার শুরু হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

শুনানিতে বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগ পড়ে শোনান। তিনি বলেন, আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের জন্য পর্যাপ্ত গ্রাউন্ড—যুক্তি, তথ্য ও প্রমাণ—রয়েছে। অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়ার আগে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের কাছে জানতে চান, তারা দোষ স্বীকার করেন কি না। জবাবে উভয় আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ট্রাইব্যুনালের কাছে ন্যায়বিচার চান।

এরপর ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান যে আবেদন করেছিলেন, তা খারিজ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের পর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট ঢাকার সদরঘাট এলাকা দিয়ে নৌপথে পালিয়ে যাওয়ার সময় আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তারা কারাগারে রয়েছেন। একই বছরের ২৭ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় হত্যাসহ পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধে তারা জড়িত ছিলেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলন দমনে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ২৮৬টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা।

এসব মামলায় সাড়ে চার লাখেরও বেশি ছাত্র-জনতাকে আসামি করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, এসব মিথ্যা মামলায় আন্দোলনকারীদের অবৈধভাবে গ্রেপ্তার করে আটকে রাখা হয় এবং হেফাজতে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল এসব অভিযোগ আমলে নেয়। এরপর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। আর আসামিদের অব্যাহতির পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।


চাইলে এটিকে আমি

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ