তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আমরা এমন কোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চাই না, যেখানে দেশ ছেড়ে পালাতে হয় কিংবা জনগণের মুখোমুখি হয়ে সৎ উত্তর দেওয়ার সাহস থাকে না। ব্যক্তি বা দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার রেডিও কলোনি স্কুল মাঠে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ভোটের রিকশা’ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মারলে দেশের প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়িত হবে এবং জনগণ প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করবে। তিনি বলেন, মানুষ যখন কোনো রাজনৈতিক দলকে ভোট দেয়, তখন দলের সবকিছু পছন্দ নাও হতে পারে। সাধারণত ৮০ শতাংশ পছন্দ আর ২০ শতাংশ অপছন্দ থাকলেও মানুষ ভোট দেয়। গণভোটের ক্ষেত্রেও একইভাবে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক বিবেচনা করে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে।
বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১১ সালে বিচার বিভাগের কাঁধে বন্দুক রেখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া হলে ভবিষ্যতে বিচার বিভাগের ওপর এ ধরনের চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, অতীতে মাত্র চার মিনিটে সংবিধান সংশোধন ও আইন প্রণয়ন করা হয়েছে—এমন চর্চা আমরা আর চাই না।
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, প্রশাসনে কোনো দলের লোক থাকবে—এমন ধারণা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। আমরা চাই প্রশাসন জনগণের পক্ষে কাজ করুক, কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়।
পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল প্রহসনের নির্বাচন। জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এমনকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও মানুষ ভোট দিতে পারেনি। একটি তথাকথিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন পরিচালিত হয়েছে, যেখানে নিজেরাই নিজেদের জয়ী ঘোষণা করেছে। এই ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে হবে।
গণভোটকে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন উল্লেখ করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের আদর্শে বিশ্বাস করতেই পারেন। কিন্তু এই গণভোট দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয় নয়, এটি জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন। দেশ জিতলে আমরা সবাই জিতব।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহাবুবা ফারজানা, তথ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল জলিল, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এ এস এম জাহীদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


