28.5 C
Dhaka
Wednesday, June 10, 2026

শেরপুরে জামায়াত নেতাকে ইট দিয়ে থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে: জেলা আমির

advertisment
- Advertisement -spot_img

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে ইট দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা জানান।

নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করে হাফিজুর রহমান বলেন, খুব দ্রুত মামলা করা হবে। তার অভিযোগ, বিএনপি পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “প্রশাসন যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনে, তাহলে জামায়াতে ইসলামী কঠোর আন্দোলনে যাবে। সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতির অবনতি হলে এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।”

এর আগে বুধবার শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন রেজাউল করিম। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

শেরপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক উপল হাসান বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

স্থানীয় ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে একটি নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হন। অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল এবং প্রার্থীরা মঞ্চে ওঠার পর সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় সভামঞ্চের সামনে রাখা কয়েক শ চেয়ার ও একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এতে দুই দলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। পরে সন্ধ্যায় ঝিনাইগাতী শহরে দ্বিতীয় দফায় আবারও বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, যেখানে উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হন।

জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা রেজাউল করিমকে ধরে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শ্রীবরদী উপজেলার গজরিপা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল মান্নান বলেন, “বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় রেজাউল করিমকে ধরে ফেলে এবং পরে ইট দিয়ে থেঁতলে দেয়।”

জামায়াতে ইসলামী শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল বলেন, এই ঘটনার পর নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে তিনি শঙ্কিত। তিনি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, ঘটনাটি বিএনপির পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একই সঙ্গে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

আজ সকালে নিহত রেজাউল করিমের বাড়ি শ্রীবরদী উপজেলার গজরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, তার কবর খোঁড়া হচ্ছে। পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ। মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করছেন এবং মরদেহের অপেক্ষায় আছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, “রেজাউল খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। এলাকায় তার যথেষ্ট জনপ্রিয়তা ছিল। তার মৃত্যুতে পুরো গ্রাম শোকাহত। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ