বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে নয়, বহুদলীয় ও সংসদীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় খুলছে এবং ‘গণহত্যাকারীরা দেশে ফিরছে’—এ বিষয়ে দলের অবস্থান জানতে চাইলে মঈন খান বলেন, বিএনপির অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার পক্ষে বিএনপি সবসময় কাজ করেছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকবাহিনীর বর্বর হামলার বিরুদ্ধে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিবাদের পতাকা উঁচু করেছিলেন এবং বিএনপি সেই আদর্শে বিশ্বাসী।
তিনি বলেন, “আমরা বহুদলীয় ও পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। একদলীয় বাকশাল শাসনের ধারণায় বিএনপি বিশ্বাস করে না। জনগণের শক্তিই আমাদের ভরসা।”
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা আরও বলেন, “আমরা একটি উদারনৈতিক রাজনৈতিক দল। সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করি। প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমাদের নেতা তারেক রহমান বারবার বলেছেন, আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী।”
তিনি আরও দাবি করেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। এই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা আমরা রক্ষা করব।”
নরসিংদী-২ আসনের সাংসদ ড. আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান নরসিংদী-১ আসনের খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ আসনের মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৪ আসনের সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) এবং নরসিংদী-৫ আসনের আশরাফ উদ্দিন।
সমাধিস্থলে দোয়া শেষে মঈন খান বলেন, “আমরা প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুক্ত হয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, নরসিংদী ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ঐতিহ্য বহন করে। সেখানকার জনগণ পাঁচজন বিএনপি নেতাকে জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছে—তাদের পক্ষ থেকেই এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।


