কক্সবাজারের টেকনাফের সমুদ্র সৈকতে ৭ ফুট লম্বা একটি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। রবিবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ২টায় বাহারছড়ার হলবনিয়া সৈকত এলাকায় ডলফিনটি আটকা পড়ে।
বন বিভাগের শীলখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা শাফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে বনবিভাগের সদস্যদের মাধ্যমে ডলফিনটি উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
রেঞ্জ কর্মকর্তা শাফিউল ইসলাম বলেন, “দুপুরে জোয়ারের পানিতে ডলফিনটি ভেসে আসে। এর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে।” তিনি ধারণা করছেন, ডলফিনটি একদিন আগে মারা গেছে।
স্থানীয় জেলে আব্দুল হামিদ জানান, “ডলফিনটি সম্ভবত কিছু জিনিসের সাথে আঘাত পেয়ে মারা গেছে। অনেক সময় জেলেরা ছেঁড়া জাল ফেলে দেয়, যা এই ধরনের সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। ছেঁড়া জাল ও প্লাস্টিক সমুদ্রে ফেলা বন্ধে জেলেদের সচেতন করা প্রয়োজন। সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, নাহলে এসব প্রাণীর মৃত্যু ঘটতে থাকবে।”
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুর রহমান বলেন, “এটি ইরাবতী ডলফিনের মতো একটি পোর্পোইস। এটি ইন্দোপ্যাসিফিক ফিনলেস পোর্পোইস নামে পরিচিত, যার বৈজ্ঞানিক নাম নিওফোকেনা ফোকেনয়েডস।” তিনি জানান, ফিনলেস পোর্পোইস একটি ছোট জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী, যার পৃষ্ঠীয় পাখনা থাকে না এবং যা সাধারণত ৫-৬ ফুট লম্বা হয়। এরা সাধারণত অগভীর জল, জলাভূমি এবং মোহনায় বসবাস করে।
ড. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “এরা সাধারণত একাকী চলাফেলা করতে পছন্দ করে, তবে খাদ্য গ্রহণের সময় দলবদ্ধ হয়ে থাকতে পারে। এরা মাছ, স্কুইড, চিংড়ি, অক্টোপাস এবং মাঝে মাঝে সামুদ্রিক উদ্ভিদ খেয়ে থাকে। বসন্ত বা গ্রীষ্মকালে এদের বাচ্চা প্রসব হয়, এবং বাচ্চারা জন্মের পর মায়ের পিঠে আটকে থাকে। এই প্রজাতির প্রধান হুমকি হচ্ছে মাছ ধরার জালে আটকে পড়া, নৌকার সাথে সংঘর্ষ, শব্দ ও জলদূষণ, বাধ ও অন্যান্য নির্মাণ কাঠামো।”


