বাংলাদেশের জলসীমায় ভারতীয় জেলেরা গভীর সাগরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, বিশেষ করে মৌসুমের শেষ দিকে রূপালি ইলিশের বিচরণের প্রধান এলাকায়। এ অভিযোগ জানিয়েছেন ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগর থেকে ফিরতে বাধ্য হওয়া বেশ কয়েকজন জেলে। সোমবার (১৪ অক্টোবর) বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য ঘাটে ফিরে এসে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তাদের অসহায়ত্ব তুলে ধরেন।
জেলেরা অভিযোগ করেন, ভারতীয় জেলেরা সাগরে তাদের সঙ্গে দস্যুর মতো আচরণ করছে। তারা হ্যান্ডমাইক দিয়ে বাংলাদেশি জেলেদের সরিয়ে দিতে বলছে, এবং যে কেউ না সরলে তাদের ওপর ইট ও চাড়া নিক্ষেপ করছে। এছাড়া, জাল কেটে দেওয়ার পাশাপাশি শক্তিশালী ট্রলারের মাধ্যমে তাদের ছোট ট্রলার ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পাথরঘাটা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে আব্দুল্লাহ বলেন, ভারতীয় জেলেরা তাদের ট্রলারের পাশে এসে জাল ফেলে। যখন তাদের জাল বাংলাদেশের জালের ওপর পড়ে, তখন তারা তা কেটে নিয়ে যায়। বাধা দিলে তারা সহিংসতা করে এবং ট্রলার আটক করে ভারতীয় জলসীমায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। সম্প্রতি, তারা তাদের দেড় লাখ টাকার জালও কেটে নিয়েছে।
অন্য জেলে মোহাম্মদ নুহু জানান, ভারতীয়রা শক্তিশালী ইঞ্জিন ব্যবহার করে বাংলাদেশের জলসীমায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাছ ধরছে। অভিযোগ করা সত্ত্বেও মালিক সমিতি থেকে কোন প্রতিকার মেলেনি।
এফবি মা ট্রলারের জেলে জিহাদ বলেন, ভারতীয়রা সুন্দরবন ও কুয়াকাটার কাছে ইলিশ মাছ ধরছে, বিশেষ করে যখন বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞা চলছে। তাদের এই সুযোগের কারণে পাথরঘাটা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরেও তারা ইলিশ শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে।
জেলেরা দাবি করেন, গভীর সমুদ্রে টহল নেই, ফলে ভারতীয় জেলেরা নির্বিঘ্নে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করছে। বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, প্রতি বছর ইলিশ মৌসুমে ভারতীয় জেলেরা আগ্রাসী হয়ে ওঠে এবং বাংলাদেশি জেলেদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে।
বরগুনার মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসিন জানান, ভারতীয় জেলেদের অনুপ্রবেশের অভিযোগ তারা বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন, তবে অফিসিয়াল অভিযোগ এখনও আসেনি।
নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, ভারতীয় জেলেদের অত্যাচার এখনও চলছে, তবে বাংলাদেশি জেলেরা আতঙ্কে রয়েছে। অভিযানের সময় তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।
দক্ষিণ স্টেশন কোস্টগার্ড ভোলা জোনের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভারতীয় জেলেদের অনুপ্রবেশ ঘটছে এবং তারা টহল জোরদার করার উদ্যোগ নিচ্ছে। গভীর সমুদ্রে অভিযানের জন্য অতিরিক্ত ট্রলার ও স্পীড বোট প্রস্তুত করা হয়েছে।


