চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে তিনটি নকল সিগারেট তৈরির উপকরণের গুদামে অভিযান চালিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের একটি সমন্বিত দল।
শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে হালিশহর থানার নয়াবাজার, আমতল ও ধোপাপাড়া এলাকায় এসব গুদামে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গঠিত একটি কমিটির উদ্যোগে সিগারেট খাতে অনিয়ম রোধের জন্য।
শনিবার কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক আয়শা সিদ্দিকার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযানে বিপুল পরিমাণ সিগারেট তৈরির কাঁচামাল এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ৩৮,৯৬৬ কেজি সিগারেট তৈরির কাগজ, ১৮,৭৪৪ কেজি বিওপিপি ফিল্ম, ৫,৭৮৯ কেজি রাসায়নিক উপকরণ, ৪,৭৮ কেজি খালি প্যাকেট, ৩,১০১ কেজি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, ১,২৪৮ কেজি ফিল্টার, ৩২২ কেজি সুপার স্ট্রিপ ট্যাপ, এবং ১৩টি সিগারেট তৈরির মেশিন।
অভিযানে নগরীর মধ্যম রামপুর ধোপাপাড়া, আমতল পেরেক ফ্যাক্টরি, ও নয়াবাজার মসজিদ গলির গুদামে প্রবেশ করা হয়। পেরেক ফ্যাক্টরি এলাকার গুদামের জব্দ করা পণ্য কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়া হয়, অন্য দুটি গুদাম সিলগালা করে দেওয়া হয়। এ গুদাম তিনটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র ও রামপুর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সবুর এবং তার ভাই আবদুল মান্নানের বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আয়শা সিদ্দিকা জানান, গুদাম দুটি সিলগালা করা হয়েছে এবং জব্দ করা পণ্য কাস্টমসের গুদামে জমা দেওয়া হয়েছে। নকল সিগারেট উৎপাদনের লক্ষ্যে উপকরণ মজুত করার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
জানা গেছে, আবদুস সবুর বিজয় ইন্টারন্যাশনাল টোব্যাকো লিমিটেড নামের একটি সিগারেট তৈরির কারখানার মালিক, যার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার ভাই আবদুল মান্নান। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নকল সিগারেট তৈরি ও নকল ব্যান্ডরোল আমদানির অভিযোগ উঠেছে। আবদুস সবুর, যিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডের দুইবার নির্বাচিত কাউন্সিলর, ২০২১ সালের নির্বাচনে প্যানেল মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।


