বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সোহান শাহ নামের (৩০) এক যুবককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে ‘শেখ বশির উদ্দিন ভূঁইয়া’ নামক একজন ব্যক্তির নাম রয়েছে আসামির তালিকায়। এই নামটি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা, ব্যবসায়ী সেখ বশির উদ্দিনের নামের সাথে কিছুটা মিল রয়েছে, এমনকি তাদের বাবার নামেও আংশিক মিল দেখা গেছে।
গত ১০ নভেম্বর সেখ বশির উদ্দিন উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণের পর মামলায় তার নাম আসা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেখ বশির উদ্দিন বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত নন, তবে বলেছেন যে, মামলার আসামির নামের কিছু মিল এবং কিছু অসংগতি থাকতে পারে। তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিত না, তবে আমাদের লিগ্যাল টিম বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং নিশ্চিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মামলায় সোহান শাহের মা সুফিয়া বেগম অভিযোগ করেছেন যে, তার ছেলের হত্যার জন্য আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং পুলিশ দায়ী। তবে মামলার আসামি হিসেবে কারা রয়েছে, তা তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন। মামলার এজাহারে মোট ৫৭ জন আসামির নাম রয়েছে, এর মধ্যে শেখ বশির উদ্দিন ভূঁইয়ার নাম ৪৯ নম্বরে এবং তার পরিচয় হিসেবে তাকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সেখ বশির উদ্দিনের বক্তব্যের পর পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
সোহান শাহ হত্যা মামলার এজাহারে, ১৯ জুলাই রামপুরা সিএনজি স্টেশনের সামনে ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। সোহান শাহের শরীরে বেশ কয়েকটি গুলির আঘাত লাগে, পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য বিভিন্ন ঘটনা ঘটে, কিন্তু চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায় এবং তিনি ২৪ আগস্ট সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
মামলায় সোহান শাহের মা, সুফিয়া বেগম, সাইফুজ্জামান শিখরকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি হিসেবে মামলায় নাম উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তার নামও আসামি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, তারা তদন্ত করে দেখছেন, শেখ বশির উদ্দিন ভূঁইয়া এবং সেখ বশির উদ্দিন একই ব্যক্তি কি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।


