জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আহত ২,১১২ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সেনাপ্রধানের নির্দেশে কাজ করেছে সিএমএইচ। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান হাসপাতালের কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর।
মশিউল মুনীর বলেন, “আহতদের প্রতিদিনের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। তবে এটি আমাদের জন্য আনন্দের। যখন দেখছি দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী কেউ হেঁটে ঘুরছে, এটি আমাদের জন্য বড় সাফল্য এবং গর্বের বিষয়। আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।”
তিনি আরও জানান, ১৭ আগস্ট সেনাপ্রধান তাকে ফোনে নির্দেশ দেন আহত দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে। এরপর দুই ঘণ্টার মধ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এর ফলেই এত সংখ্যক রোগীকে দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
মশিউল মুনীর জানান, আহতদের মধ্যে ৫৮২ জনের গুরুতর অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে ছয়জন রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সেনাপ্রধানের তহবিল থেকে ১ কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি আহতদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, যেমন হুইল চেয়ার, সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “সেনাপ্রধানের নির্দেশে কিছু রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চীন, সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ডের সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হবে। আমরা সবসময় জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করি এবং এটি আমাদের গর্বের জায়গা।”
তিনি বলেন, “আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেনাবাহিনী কখনো জনগণ ছাড়া সফল হতে পারে না। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন আমরা সবসময় আপনাদের পাশে থাকতে পারি।”
সিএমএইচের এই উদ্যোগ জনগণের প্রতি সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীলতার উদাহরণ। এটি শুধু চিকিৎসা সেবা নয়, বরং মানবিকতার নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে।


