আকিজ বশির গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেখ বশির উদ্দিনের অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। তবে রাজনীতিবিদ ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি এক ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তার মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন।
ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট থেকে বুধবার (১৩ নভেম্বর) এক পোস্টে রনি বলেন, “যত উপদেষ্টা নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের মধ্যে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং সফলতার বিচারে সেখ বশিরের নিয়োগটি সর্বশ্রেষ্ঠ।”
গোলাম মাওলা রনি আরও বলেন, সেখ বশিরের পরিবার দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী পরিবারগুলোর একটি। তাদের পারিবারিক ঐক্য এবং বোঝাপড়া অনন্য, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিরল। মরহুম আকিজ উদ্দিনের পরিবার যশোরে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই পরিবারের একাধিক সদস্য সংসদ সদস্য ছিলেন এবং দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সবসময় তাদের দলে টানার চেষ্টা করেছে।
সেখ বশির রাজনীতি বিমুখ হলেও সব দলই তাকে কাঙ্ক্ষিত প্রার্থী হিসেবে দেখে। রনি বলেন, “সাধারণত দুর্বল প্রার্থীরা নমিনেশনের জন্য দালালি করে, কিন্তু শেখ বশির এমন প্রার্থী যার জন্য দলগুলোরই আগ্রহ থাকে। তবে তিনি কখনো সরাসরি রাজনীতিতে আসেননি।”
গোলাম মাওলা রনি অবাক হয়ে লিখেছেন, “সেখ বশির কেন উপদেষ্টা হতে গেলেন, তা আমার মাথায় ধুকছে না। আমার জানা মতে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য ড. ইউনুস একজন সৎ এবং সফল ব্যবসায়ী খুঁজছিলেন। অনেকেই প্রস্তাব পেয়ে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি পদটি পাওয়ার জন্য তদবির করছিলেন। তবে ড. ইউনুস তাদের চাপে মাথা নত করেননি।”
সেখ বশিরকে পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে অনেকে “কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট” বলে সমালোচনা করছেন। তবে রনি বলেন, “বশির এবং তার পরিবার দেশের সবচেয়ে বড় পাটকলগুলোর মালিক হলেও, পাট মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের সবচেয়ে অবহেলিত ও জটিল মন্ত্রণালয়। সেখ বশির যদি এই মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন করতে না পারেন, তবে আর কেউই পারবেন না।”
রনি তার স্ট্যাটাসে দৃঢ়ভাবে বলেন, “বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সেখ বশির যে ভালো কিছু করবেন, তা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।”
গত রোববার বঙ্গভবনে তিন নতুন উপদেষ্টা শপথ নেন। তারা হলেন— ব্যবসায়ী সেখ বশির উদ্দিন, চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম। এদের মধ্যে বশির উদ্দিন এবং ফারুকীকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।
সমালোচনার মধ্যেও সেখ বশির উদ্দিন তার যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে অনেকেই আশাবাদী। এখন দেখার বিষয়, তিনি কীভাবে এই দায়িত্বগুলো সামলান।


