28.6 C
Dhaka
Monday, June 15, 2026

শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে বেক্সিমকো গ্রুপকে ৬০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে সরকার

advertisment
- Advertisement -spot_img

বাংলাদেশ সরকার বেক্সিমকো গ্রুপকে অক্টোবর মাসের বেতন পরিশোধের জন্য ৬০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঋণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর আগে, বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শ্রমিকরা বকেয়া বেতন দাবি করে গত চারদিন ধরে গাজীপুরের সারাবো এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে শ্রম মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সম্মিলিতভাবে এই ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বেক্সিমকো গ্রুপের কর্মকর্তারা। শ্রমসচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে সহায়তা করার জন্য এই ঋণ দেওয়া হচ্ছে, এবং তিনি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে শ্রমিকদের দ্রুত কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালক (অর্থ ও করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) ওসমান কায়সার চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা শ্রম মন্ত্রণালয় এবং ৫০ কোটি টাকা অর্থ মন্ত্রণালয় ঋণ হিসেবে প্রদান করবে। তবে ঋণ পাওয়ার জন্য কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ১-২ দিন সময় লাগতে পারে। তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে মোট ৮০ কোটি টাকা প্রয়োজন, যার মধ্যে ২০ কোটি টাকা বেক্সিমকো নিজেই সংগ্রহ করবে।

বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ২৪টি কারখানায় প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক কর্মরত। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ঋণখেলাপির কারণে এই গ্রুপের কোম্পানিগুলি কাঁচামাল আমদানি করতে পারছে না, যার ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিমাসে গড়ে ৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করলেও কাঁচামাল সংকটের কারণে শ্রমিকদের বেতন দিতে আর্থিক সমস্যা হচ্ছে। গত তিন মাসে বেতন-ভাতা পরিশোধে ৩৫০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে, যা কোম্পানির জন্য একটি বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওসমান কায়সার চৌধুরী আরও বলেন, কাঁচামাল আমদানি বন্ধ থাকার কারণে কারখানা বন্ধ করার উপক্রম হলেও, সরকার কারখানা চালু রাখতে বলেছে। তবে কাঁচামাল আমদানি সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, বিদেশি ক্রেতাদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে এবং শ্রমিকদের ব্যস্ত রাখতে কিছু সাবকন্ট্রাক্ট কাজ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে সেগুলিও পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

আগের বছরেও বেক্সিমকো গ্রুপের শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল, যার ফলে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তখন রাষ্ট্রমালিকানাধীন জনতা ব্যাংক ৫৫ কোটি টাকা ঋণ সরবরাহ করেছিল, তবে বর্তমানে গ্রুপটির জনতা ব্যাংকের কাছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপি রয়েছে। এছাড়া, বেক্সিমকো গ্রুপ ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার রপ্তানি আয় দেশে আনছে না।

উল্লেখ্য, বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, যিনি আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন, বর্তমানে কারাবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ