দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদি কোনো সংস্কার কার্যক্রম সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য আগামী দুই বছরের একটি বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা তৈরির পরামর্শ দিয়েছে।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শ্বেতপত্র কমিটির সদস্য ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি জানান, বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে যে ধরনের দুর্নীতির চর্চা হয়েছে, তা দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে চামচা পুঁজিবাদ থেকে চোরতন্ত্রে রূপান্তরিত করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় থেকেই স্বচ্ছতার ঘাটতি দেখা গেছে, যা পরবর্তীতেও বজায় থেকেছে। এর ফলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
দেবপ্রিয় আরও বলেন, জাতিসংঘের মতে, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত। তবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে টিকে থাকার জন্য আরও দায়বদ্ধতা এবং কার্যকর অর্থনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরবর্তী জাতীয় বাজেট আসার আগেই সরকারের উচিত স্পষ্টভাবে জানানো যে তারা অর্থনৈতিক সংস্কারে কী কী উদ্যোগ নিচ্ছে। এছাড়া আগামী দুই বছরের জন্য একটি সুপরিকল্পিত কর্মপন্থা থাকা জরুরি।
ড. দেবপ্রিয় মনে করেন, বর্তমান সরকার হয়তো পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্বে থাকবে না। তবে তাদের অন্তত আগামী দুই বছরের জন্য একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।


